সোমরাজ মৈত্রের সাক্ষাত্কার: বাংলা টেলিভিশনে শিল্পীর পরিচয়
বাংলা ধারাবাহিকের জগতে নিজের স্থান করে নেওয়া অভিনেতা সোমরাজ মৈত্র। 'কণে দেখা আলো' ধারাবাহিকে অনুভব চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। বাংলা সংস্কৃতির এই শিল্পী তার কাজ ও জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
শিল্পের প্রতি নিবেদন
"আমার মনে হয় এখনও অবধি এটা আমার সবথেকে প্রিয় স্ক্রিপ্ট," বলেন সোমরাজ। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে দীর্ঘ দশ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই চরিত্রে আরও গভীরতা এনে দিয়েছে।
বাংলা টেলিভিশনে নতুন জুটি তৈরি করা সহজ কাজ নয়। সাইনার সাথে কাজ করার প্রাথমিক দ্বিধা থাকলেও, সৃজনশীল দলের পরিকল্পনা ও দর্শকদের ভালোবাসা তাকে আশ্বস্ত করেছে।
অভিজ্ঞতার পরিবর্তন
"এই দশ বছরে সিনেমা থেকেও অনেককিছু শিখেছি। এখন জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে। এটা এখন হেল্প করে," স্বীকার করেন তিনি। বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে তার অভিনয়ে এসেছে নতুন মাত্রা।
চরিত্র নির্বাচনে তার বিবেচনা স্পষ্ট: লেখক কে এবং কন্টেন্ট কী। টেলিভিশনের জগতে ইমোশন ও সংলাপের গুরুত্ব তিনি বোঝেন।
শিল্প ও ব্যবসার সমন্বয়
টিআরপির গুরুত্ব সম্পর্কে সোমরাজের মতামত বাস্তবধর্মী। "দিনের শেষে এটা ব্যবসা। টিআরপি ভাল থাকলে, সিরিয়াল দীর্ঘস্থায়ী হয়," বলেন তিনি। তবে এর চক্করে যেন কারও পারফরম্যান্স খারাপ না হয়, সেই বিষয়ে সচেতন।
চরিত্রের প্রভাব
অনুভব চরিত্রটি 'টক্সিক' কিনা, এই প্রশ্নে সোমরাজের উত্তর: "আমার মনে হয় না। যারা প্রথম থেকে শো দেখেছে তাঁরা হয়তো বলবেন না।" তিনি মনে করেন টেলিভিশনে কিছু ড্রামাটিক উপাদান থাকেই।
এই চরিত্র থেকে তিনি শিখছেন ধৈর্য। "মানুষ কতটা ধৈর্য রাখতে পারে এটা শিখছি। সোমরাজের অনুভবের মত ধৈর্য নেই।"
ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা
তারকাখ্যাতি ধরে রাখতে ব্যক্তিগত জীবনের প্রদর্শনী প্রয়োজন কিনা, এই বিষয়ে তার স্পষ্ট মতামত: "বিয়ে বা প্রেম এটা কিন্তু ব্যবসা করার জায়গা না।" তিনি বিশ্বাস করেন ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবসায়িক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বাংলা টেলিভিশনের এই শিল্পী তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন যে, প্রকৃত শিল্প সর্বদাই দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করে। তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।