কলকাতার পথ দুর্ঘটনা: রাজনৈতিক আশ্রয়ের কুফল
আমাদের প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার পথ দুর্ঘটনার চিত্র আমাদের নিজেদের দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছি, সেখানেও এ ধরনের সমস্যা রয়েছে।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে কলকাতায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত ২০৪ জন, আহত ৯২৫ জন। তুলনায় দিল্লিতে মৃত ১৪৫৭ জন। পরিসংখ্যানে কলকাতার অবস্থান ভালো হলেও, এর পেছনে রয়েছে গভীর সমস্যা।
দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট ধরন
কলকাতার পথ দুর্ঘটনাগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট ধরন লক্ষ করা যায়:
- দুই বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা
- অকেজো বাস বা ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারানো
- ট্রাফিক সিগনাল অমান্য
- মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো
- হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো
এই সব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং পুলিশি নজরদারির অভাব।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের সংস্কৃতি
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক আশ্রয়ের সংস্কৃতি। পুলিশ জানে যে কাউকে ধরার সাথে সাথেই রাজনৈতিক নেতাদের ফোন আসবে। এই রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতি কলকাতাকে আইনভঙ্গকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সতর্কতার বার্তা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধানের পথ
পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্রয়োজন:
- কঠোর নজরদারি
- দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
- রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ
- আইনের যথাযথ প্রয়োগ
বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন দেশে আমাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করতে হবে। বিদেশি প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে আমাদের নিজস্ব পথে এগিয়ে যেতে হবে।