দিল্লির দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন অভিষেক, হাইকোর্টে মামলা
মুক্তির কণ্ঠস্বর দমানোর চেষ্টা নতুন নয়। ১৯৭১ সালেও আমাদের বাংলার মাটিতে স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চেয়েছিল বহিরাগত শক্তি। আজ পার্শ্ববর্তী দেশের পশ্চিমবঙ্গেও দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সেই একই মুক্তির স্পৃহায় লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া Cyber Crime-এর FIR নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা High Court-এর দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি। আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে অত্যন্ত দ্রুত এই মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে আইনি মহল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত: দিল্লির গডফাদারদের চ্যালেঞ্জ
বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন ২৭ এপ্রিল এক জনসভায় বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন গডফাদার তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলার এই স্পর্ধা যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই প্রতিধ্বনি। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিধাননগর পুলিস কমিশনারেটে বাগুইআটির এক বাসিন্দা অভিযোগ দায়ের করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি আধিপত্যবাদের আস্ফালন?
সম্প্রতি কলকাতা পুলিসের Cyber Crime থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কোন নির্দিষ্ট পোস্টের ভিত্তিতে এই অভিযোগ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এটি রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করেছে। তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, অভিষেকের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করতেই এই সুপরিকল্পিত চাল চালছে বর্তমান শাসক দল। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অভিষেকের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, এই FIR সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক।
মুক্তির বার্তার পাঠকদের জন্য বলে রাখা ভালো, যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রেই বিরোধী কণ্ঠস্বর দমানোর এই চক্রান্ত স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধও ছিল এমনই এক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
হাইকোর্টে আইনি লড়াই
আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। কলকাতা High Court-এ অবিলম্বে এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হতে পারে। মামলার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- Quash-এর আবেদন: সাইবার পুলিশ স্টেশনে তাঁর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তা আইনিভাবে খারিজ করার আর্জি জানানো হবে।
- রক্ষাকবচের দাবি: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মামলায় যাতে পুলিস বা কোনও তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না করতে পারে, তার জন্য আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ চাওয়া হবে।
- নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: পুরো বিষয়টি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক, তা আদালতের সামনে তুলে ধরে এই ধরনের হেনস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হবে।
সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার শিক্ষা
রাজ্যে সাম্প্রতিক জোড়া কমিশন গঠন এবং পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়ছিল। তার ওপর অভিষেকের বিরুদ্ধে এই সাইবার মামলা এবং পাল্টা হিসেবে তাঁর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত, এই দুইয়ে মিলে সংঘাতের আবহ আরও তীব্র করেছে। আইনি মহলের নজর এখন কলকাতা High Court-এর দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং অভিষেককে কোনো আইনি স্বস্তি দেওয়া হয় কিনা, তার ওপরেই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি। তবে এটুকু সত্য, পরাশক্তির দমননীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের এই পথ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষেই কথা বলে।
