বিজেপিতে অন্তর্কলহ: দুর্নীতিবাজদের টিকিট দিয়ে সৎ নেতাদের বঞ্চনা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও প্রমাণিত হলো যে, দুর্নীতি আর অসততা কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। বিজেপির অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে, তা আমাদের স্বাধীনতার চেতনার সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিংকু মজুমদারের এই প্রতিবাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা, যখন আমরা সততা আর ন্যায়ের জন্য লড়াই করেছিলাম।
দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় কেন?
রিংকু মজুমদারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। রাজারহাট-নিউটাউনের প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া নাকি কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপে জড়িত। অন্যদিকে বীজপুরের প্রার্থী সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেছিলেন, "দুর্নীতিবাজদের আমি ক্ষমা করতে পারি না।"
পারিবারিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতি
রিংকুদেবী যথার্থই প্রশ্ন তুলেছেন - একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে প্রার্থী করা হবে না বলে তাকে বঞ্চিত করা হলেও শুভেন্দু অধিকারী আর অর্জুন সিং পরিবারের একাধিক সদস্য টিকিট পেয়েছেন। এই দ্বিমুখী নীতি আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন
২০১৩ সাল থেকে দলের সাথে যুক্ত থাকা রিংকু মজুমদারের এই বিদ্রোহ দেখায় যে, সৎ মানুষেরা কীভাবে রাজনীতিতে উপেক্ষিত হন। তার কথায়, "আমি কি নিজে ক্রিমিনাল নাকি! আমার কি আত্মসম্মান নেই? অভিযুক্ত প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে যাব না।"
এই বক্তব্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, সেখানে দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান ছিল না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়
বিজেপির এই অন্তর্কলহ প্রমাণ করে যে, বাংলার রাজনীতিতে কীভাবে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। যে দল নিজেদের 'পরিবর্তনের' দল বলে দাবি করে, সেই দলেই যখন দুর্নীতিবাজদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়।
রিংকুদেবীর এই প্রতিবাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ন্যায় আর সততার পক্ষে দাঁড়ানো প্রতিটি বাঙালির কর্তব্য। আমাদের ভাষা শহীদ আর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়।