পাকিস্তানের 'যুদ্ধ-পরীক্ষিত' জেট প্রত্যাখ্যান করে ইন্দোনেশিয়া কিনল ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার লড়াকু জেট প্রত্যাখ্যান করে ভারতের সঙ্গে কয়েক কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ও চিনের কূটনৈতিক মুখে চপেটাঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের 'যুদ্ধ-পরীক্ষিত' প্রচারণা
গত বছর ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পর পাকিস্তান তাদের সামরিক অস্ত্রশস্ত্রকে 'যুদ্ধ-পরীক্ষিত' বলে প্রচার করতে শুরু করে। চিনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার লড়াকু জেট বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রচারণা চালায় ইসলামাবাদ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার দাবি করে যে ১৩টি দেশ তাদের জেএফ-১৭ থান্ডার কিনতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ছয় থেকে আটটি রাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও জানানো হয়।
ইন্দোনেশিয়ার মত পরিবর্তন
প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান থেকে ৪০টি যুদ্ধবিমান কেনার কথা ভাবলেও ইন্দোনেশিয়া শেষ পর্যন্ত ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মস 'সুপারসনিক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করে জাকার্তা।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানান, "নয়াদিল্লির সঙ্গে হওয়া ব্রহ্মস চুক্তি আমাদের সামরিক আধুনিকীকরণের অংশ। ওই ক্ষেপণাস্ত্র ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় শক্তি বৃদ্ধিতে আমাদের সাহায্য করবে।"
অপারেশন সিঁদুর ও ব্রহ্মসের কার্যকারিতা
গত বছরের পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় বাহিনী 'অপারেশন সিঁদুর' পরিচালনা করে। এই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে পাকিস্তানের বায়ুসেনার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, চিনা অস্ত্রশস্ত্রের তুলনায় ভারতীয় ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে এই যুদ্ধে। চিনের এইচকিউ-৯পি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্রহ্মস আটকাতে ব্যর্থ হয়।
কৌশলগত গুরুত্ব
ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। মলাক্কা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিনের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের 'নাইন-ড্যাশ লাইন' দাবির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রহ্মসের বিশেষত্ব
রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে তিন গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। রণতরী, লড়াকু জেট এবং স্থলবাহিনীর লঞ্চার থেকে এটি ব্যবহার করা যায়। ২০০৫ সাল থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ইন্দোনেশিয়ার খরচ হবে আনুমানিক ২০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার।
পাকিস্তানের হতাশা
ইন্দোনেশিয়া হাতছাড়া হলেও পাকিস্তান এখনও সুদান, নাইজেরিয়া, মরক্কো, সৌদি আরব, বাংলাদেশ ও লিবিয়ার কাছে জেএফ-১৭ বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব দেশে অস্ত্র বিক্রি কঠিন।
স্টকহলম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা সিমন ওয়েজম্যান বলেছেন, জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে সুদান ও লিবিয়ার মতো দেশে যুদ্ধবিমান বিক্রি সম্ভব নয়।
ইতিমধ্যে ফিলিপিন্স ২০২২ সালে ৩৭.৪০ কোটি ডলারে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চিলিও এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে।