আমেরিকায় কর্পোরেট অমানবিকতা: WFH না পেয়ে মৃত্যু নবজাতকের
আধুনিক পুঁজিবাদী দুনিয়ায় কর্পোরেট অমানবিকতার এক ভয়াবহ নজির সামনে এসেছে আমেরিকা থেকে। একজন মায়ের বাড়ি থেকে কাজের আবেদন নাকচ করার ফলে তার সদ্যজাত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য আদালত ওই কোম্পানিকে ২৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত
ব্রিয়ানা হেইস নামে এক মহিলা আমেরিকার একটি বিমা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পর তিনি নানা শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হন। তার সদ্যজাত সন্তানটিও অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন ছিল।
ব্রিয়ানা বারবার তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাকে সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। তার যুক্তি ছিল, অফিসে গিয়ে কাজ করলে তিনি তার অসুস্থ সন্তানের সঠিক পরিচর্যা করতে পারবেন না।
কিন্তু কোম্পানি তার এই মানবিক আবেদনে কর্ণপাত করেনি। কর্তৃপক্ষ তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাকে অফিসেই আসতে হবে, নতুবা চাকরি হারাতে হবে। অভাবের সংসার এবং চাকরির প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই অসুস্থ সন্তানকে বাড়িতে রেখে তিনি অফিসে যাতায়াত শুরু করেন।
মর্মান্তিক পরিণতি
অফিসে কাজের চাপে ব্রিয়ানা তার সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে পূর্ণ নজর দিতে পারেননি। পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তার সদ্যজাত সন্তানটি মারা যায়।
এই শোকাবহ ঘটনার পর ব্রিয়ানা ভেঙে পড়লেও হার মানেননি। তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, কোম্পানি যদি তাকে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিত, তবে তিনি তার সন্তানকে বাঁচাতে পারতেন।
আদালতের ঐতিহাসিক রায়
দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। বিচারক জানিয়েছেন যে, একজন কর্মীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করা নিয়োগকর্তার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
আদালতের নির্দেশনা:
- ব্রিয়ানা হেইসকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে
- কর্মীদের পারিবারিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে নমনীয় কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ করতে হবে
বিশ্বব্যাপী প্রভাব
এই রায় সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক কোম্পানিই কর্মীদের আবার অফিসমুখী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে রিমোট ওয়ার্ক বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের প্রয়োজনে আবশ্যিক।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই রায় কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকার এবং মাতৃত্বকালীন সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।
উপসংহার
টাকা দিয়ে ব্রিয়ানা তার সন্তানকে ফিরে পাবেন না, কিন্তু আদালতের এই রায় তার সংগ্রামকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বিশাল জরিমানা কেবল একটি অঙ্কের হিসাব নয়, বরং এটি সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে আঘাত যা কর্মীকে কেবল একটি যন্ত্র মনে করে।
ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মাকে তার সন্তানের জীবনের বিনিময়ে জীবিকা বেছে নিতে না হয়, এই রায় সেই আশাই জাগিয়ে তুলেছে।