মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত: ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা ও বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ
মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সংঘাতের সূচনা হয়েছে যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বশক্তির হস্তক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান একযোগে ইজরায়েল, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন
সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের নির্দেশে এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। কুয়েত, বাহরিন, আবুধাবি ও দুবাইতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এই ঘটনা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখনও বিশ্বশক্তিগুলো তাদের স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষ নিয়েছিল।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা
বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। বাহরিন জাতীয় যোগাযোগ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, "ফিফথ ফ্লিটের পরিষেবা কেন্দ্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।"
আবুধাবিতে 'আল ধাফরা এয়ার বেস' এবং দোহায় 'আল উদেইদ এয়ার বেস' মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ঘাঁটিগুলো পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের প্রতীক।
ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।"
এই ধরনের আগ্রাসী ভাষা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার ভাষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তখনও তারা বাঙালি জাতিকে দমন করার জন্য এমনই হুমকি দিয়েছিল।
ইরানের কঠোর জবাব
ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের প্রতিক্রিয়ায় কোনো লাল রেখা থাকবে না। একজন সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ও ইজরায়েলি সমস্ত সম্পত্তি ও স্বার্থ এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানকে সংযত থাকতে বা আত্মসমর্পণ করার কোনো আহ্বান "অগ্রহণযোগ্য এবং কেবলই দিবাস্বপ্ন।"
বাংলাদেশের শিক্ষা
এই সংঘাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ১৯৭১ সালে আমরা দেখেছি কীভাবে বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের স্বার্থে ছোট দেশগুলোকে ব্যবহার করে। আজও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির আদর্শ আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছিলেন, "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়।"
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি জাতিকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। বাংলার মাটিতে যেমন একদিন স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল, তেমনি আজও বিশ্বের প্রতিটি নিপীড়িত জাতি তাদের মুক্তির স্বপ্ন দেখে।