বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়: তারেক রহমানের উত্থান
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আজ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, তা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল চেতনার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত।
ইনকিলাবি চেতনা এবং জাতীয় জাগরণ
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের তরুণ নেতা শেখ ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। হাদি ছিলেন বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তার জানাজায় উচ্চারিত হুঙ্কার "গুলামি না আজাদি? আজাদি, আজাদি" এবং "দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা" বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা প্রীতির প্রকাশ।
তবে এই আবেগপ্রবণতার মধ্যে দিয়ে যখন কিছু অপশক্তি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ চালায়, যখন ছায়ানটের মতো মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা হয়, তখন বুঝতে হবে যে প্রকৃত জাতীয়তাবাদ কখনও আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও ভাষার বিরোধী নয়।
খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার এবং তারেকের নেতৃত্ব
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক যে "I Have a Plan" বলে জনগণের কাছে গেছেন, তা আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের নতুন পথ দেখাতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম প্রকৃত অর্থে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন।
চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা
তবে তারেক রহমানের সামনে রয়েছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিরসন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে, তা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে। আমাদের বস্ত্রশিল্পসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করা অপরিহার্য।
তৃতীয়ত, জামায়াতের মতো ইসলামি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে সাবধানে চলতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বজায় রেখে এগোতে হবে।
প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হতে হবে আমাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন, কিন্তু তা হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, কোনো ধরনের আধিপত্য মেনে নিয়ে নয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা কোনো বিদেশি শক্তির করুণার ফল নয়, বরং আমাদের জনগণের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। এই চেতনা নিয়েই আমাদের এগিয়ে চলতে হবে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এই নতুন পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকবে।