আমেরিকার 'মহাকাব্যিক ক্রোধ': ইরানে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করল?
বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে আবারও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু একটি অঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইজরায়েল এবং আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন। ইজরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছে 'অপারেশন লায়ন্স রোর' এবং আমেরিকা নাম দিয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' বা 'মহাকাব্যিক ক্রোধ'।
আমেরিকার অস্ত্রভান্ডার থেকে যা ব্যবহার হয়েছে
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এই অভিযানে আমেরিকা তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
বি-২ স্টেল্থ বোমারু বিমান
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধবিমানের তকমাধারী এই 'শিকারি ইগল' ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর আগেও ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে এই বিমান আলোচনায় এসেছিল।
'লুকাস' ড্রোন: ইরানের প্রযুক্তির নকল
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আমেরিকা প্রথমবারের মতো 'লুকাস' ড্রোন ব্যবহার করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ড্রোন তৈরি হয়েছে ইরানের 'শাহেদ ১৩৬' ড্রোনের আদলে। অর্থাৎ, ইরানের প্রযুক্তি 'নকল' করে আমেরিকা তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
'ফেজড অ্যারে ট্র্যাকিং রাডার ফর ইন্টারসেপ্ট অন টার্গেট'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ এই প্যাট্রিয়ট। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে আমেরিকা এই অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।
অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান
এফ-১৮, এফ-১৬, এফ-২২, এফ-৩৫ স্টেল্থ যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আরও অনেক উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এই অভিযানে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব
এই ঘটনা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বাংলাদেশের মতো স্বাধীন দেশের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় ঘটনা যে, কীভাবে বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষায় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।
১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তি তাদের স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছিল, আজকের এই ঘটনাও তেমনই বিশ্ব রাজনীতির জটিল চরিত্র তুলে ধরে।
গোপন অস্ত্রের ব্যবহার
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে, তালিকাভুক্ত অস্ত্র ছাড়াও তারা 'বিশেষ কিছু অস্ত্র' ব্যবহার করেছে, যা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত অস্ত্রও থাকতে পারে।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শুধু কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়, প্রতিরক্ষা ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।