ভোটাধিকার রক্ষায় মমতার ধর্না: গণতন্ত্রের স্বাধীনতা হুমকিতে
১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জিত হয়েছিল, আজ সেই অধিকারই হুমকির মুখে। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তথাকথিত SIR প্রক্রিয়ায় ৬৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই দিনগুলোর কথা, যখন জনগণের অধিকার হরণ করা হতো।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬ মার্চ মেট্রো চ্যানেলে ধর্না অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিশোধমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে।" এই কথাগুলো শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং গোটা উপমহাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিধ্বনি।
স্বাধীনতার চেতনা বনাম কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র
কেন্দ্র ও কমিশনের মধ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে মমতা বলেছেন, "শুরু থেকেই জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই জারি রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাব।" এই বক্তব্য আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য চেতনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
শুধুমাত্র ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ৪৭ হাজার নামের অধিক ভোটার বাদ পড়েছেন। পূর্বে ২.০৬ লাখ ভোটার থাকলেও প্রাথমিক খসড়ায় ৪৪,০০০ নাম বাদ হয়েছে, পরে আরও ২,০০০ নাম কাটা হয়েছে। ১৪,০০০ মামলা এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিতে আঘাত
সমগ্র রাজ্যে ৬ৣ.৬৬ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের ৮.৩ শতাংশ। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর সরাসরি আক্রমণ। ৬০.০৬ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, যা তাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "এটি খুব দুঃখজনক এবং অমানবিক পরিস্থিতি। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন।" এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, স্বাধীনতার পর থেকে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার আজ কতটা হুমকির মুখে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনমত
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই এক কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় শক্তি কতটা আত্মবিশ্বাসী তাদের এই অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ নিয়ে।
স্বাধীনতার চেতনায় প্রতিরোধ
১৯৭১ সালে যে চেতনায় আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, আজকের এই পরিস্থিতি সেই একই চেতনার আহ্বান জানাচ্ছে। ভোটাধিকার শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, এটি জনগণের মৌলিক স্বাধীনতার অংশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্না কর্মসূচি তাই শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রাম। যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা জীবন দিয়েছেন, সেই বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব।