পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা কারসাজি: গণতন্ত্রের বিপদ
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে হস্তক্ষেপ চলছে, তা আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছিলাম, সেই একই মূল্যবোধ আজ পশ্চিমবঙ্গে হুমকির মুখে।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারসাজি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। SIR পর্বে ৬৩ লাখ নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় তিনি বলেছেন, "নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিশোধমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে"।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা, যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা করেছিল। আজ পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ভবানীপুরে ৪৭ হাজার নাম বাদ
মুখ্যমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, "ভবানীপুরে আগে ২.০৬ লাখ ভোটার ছিলেন। প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি করার সময় ৪৪,০০০টি নাম বাদ পড়েছে, এবং পরে আরও ২,০০০ নাম বাদ হয়েছে।"
এই ধরনের ব্যাপক নাম কাটার ঘটনা আমাদের স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী। ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলাম, তার মূল ভিত্তি ছিল প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার।
প্রতিবাদী ধর্না কর্মসূচি
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে ৬ মার্চ মেট্রো চ্যানেলে ধর্না অবস্থানে বসার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, "শুরু থেকেই জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই জারি রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাব"।
এই প্রতিবাদী মনোভাব আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনার কথা মনে করিয়ে দেয়। যখনই গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা হয়েছে, তখনই প্রতিবাদ করতে হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য মমতার ধর্নার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে এই ধর্না বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ভোটারদের জন্য। কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা অনুচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, "এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই এক কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল"।
গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগ
এসআইআর প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে মোট ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের ৮.৩ শতাংশ। এছাড়া ৬০.০৬ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনা সেই আদর্শের বিপরীত।
বাংলা ভাষাভাষী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ১৯৭১ সালের চেতনায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, যেকোনো অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে।