পাকিস্তান কি সৌদির পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে?
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুনে আরেকটি দেশ জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সাম্প্রতিক বিবৃতি নিয়ে জল্পনা চলছে যে, ইসলামাবাদ সৌদি আরবের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারে।
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির হুমকি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বেঁধে যায়। পাল্টা প্রত্যাঘাতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আরব দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোতে হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এই পরিস্থিতিতে ৩ মার্চ ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। পরে পাক পার্লামেন্টে তিনি বলেন, "সৌদির সঙ্গে আমাদের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, সেটা আমরা তেহরানকে বোঝাতে পেরেছি।"
কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত
গত বছর সেপ্টেম্বরে রিয়াধের সঙ্গে একটি 'কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করে ইসলামাবাদ। এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটি তৃতীয় শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হলে তা উভয় দেশের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
কূটনীতিকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সৌদির পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে পাকিস্তানে তীব্র তেল সংকট দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল আমদানির জন্য রিয়াধের কাছে আর্জি জানিয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার।
অর্থনৈতিক চাপ ও মার্কিন নির্দেশনা
গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছে পাকিস্তান। দেশ চালাতে ঘনঘন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এই সংস্থার ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের তেহরান আক্রমণের নির্দেশ দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যুদ্ধে না জড়ানোর যুক্তি
তবে ইরান সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া যে 'আত্মহত্যার' শামিল তা ভালোই জানেন পাক ফৌজের প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে তার সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে আরও একটা ফ্রন্ট খোলা কঠিন।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই ও একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের ঘটনা ইসলামিক বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানেও মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তৃতীয়ত, বালোচিস্তানে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত পাক সেনাবাহিনী। ইরান যুদ্ধে যোগ দিলে বালোচিস্তান থেকে বাহিনী সরাতে হবে, যা স্বাধীনতাকামীদের সুবর্ণ সুযোগ করে দেবে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি
ইরানের হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি এমনকি মার্কিন ও ইজরায়েলি বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ব্যর্থ করে দিয়েছে। যুদ্ধে গেলে এই আঘাত সহ্য করতে হবে পাকিস্তানকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা দেখার বিষয়।