রাজগঞ্জে তৃণমূল কর্মীদের বিদ্রোহ: স্বপ্না বর্মণের প্রার্থিত্ব নিয়ে তুলকালাম
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে এমন দৃশ্য বিরল। রাজগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে অর্জুন পুরস্কারজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের নাম ঘোষণা হতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা চেয়ারম্যানের ইস্তফা
প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলকে চিঠি দিলেন খগেশ্বর রায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দলের অনেক অঞ্চল ও ব্লক সভাপতিও দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন।
বিক্ষোভের মূল কারণ
রাজগঞ্জ তৃণমূল শিবিরের একাংশের অভিযোগ, স্বপ্না বর্মণ ক্রীড়াক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেও রাজনীতির ময়দানে তিনি সম্পূর্ণ নতুন। দীর্ঘদিনের লড়াই করা স্থানীয় নেতাদের বাদ দিয়ে হঠাত করে 'তারকা' প্রার্থী ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।
প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি 'বহিরাগত' বা 'অরাজনৈতিক' প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।
কর্মীদের ক্ষোভ ও দাবি
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের বক্তব্য, রাজগঞ্জে দলের দীর্ঘদিনের অনুগত এবং সংগঠনের কাজে অভিজ্ঞ একাধিক নেতা ছিলেন। তাঁদের বদলে কেন একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে টিকিট দেওয়া হলো, তা নিয়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছেন তাঁরা।
রাজগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত অঞ্চল প্রেসিডেন্ট, ব্লক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জেলা নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই বিক্ষোভকে সাময়িক বলে মনে করছে। তাঁদের মতে, স্বপ্না বর্মণ এই জেলারই মেয়ে এবং তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দলের জয়ের পথকে সহজ করবে। শুরুতে ক্ষোভ থাকলেও প্রচার শুরু হলে কর্মীরা একজোট হয়ে কাজ করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।
বিজেপিতেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপিতেও প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ। আলিপুরদুয়ারে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিতোষ দাসের নাম ঘোষিত হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ। ক্রুদ্ধ কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনের আগে তৃণমূল শিবিরের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একইভাবে আলিপুরদুয়ারের পরিস্থিতি বিজেপির জন্যও উদ্বেগের কারণ।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রমাণ করে যে, স্থানীয় নেতৃত্বের চাহিদাকে অগ্রাহ্য করে প্রার্থী নির্বাচন করলে তার পরিণতি কতটা গুরুতর হতে পারে।