ত্রিপুরায় জুনে এডিসি নির্বাচন: সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে উপজাতি অধিকারের জয়
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ত্রিপুরার উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশাল বিজয় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এ বছর জুন মাসের মধ্যে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের অধীনস্থ ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেছেন, "দশ বছরের ব্যবধানের পর জিন মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভিলেজে কাউন্সিল নির্বাচন। আমাদের তিপ্রাসা জনগণকে ন্যায় দেবার জন্যে সুপ্রিম কোর্টকে বিশাল ধন্যবাদ।"
উপজাতি স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব
ত্রিপুরার মোট ১০,৪৯১.৫ বর্গ কিমি ভৌগোলিক এলাকার ৭,১৩২.৫৬ বর্গ কিমি এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ এলাকা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে। রাজ্যের ৩৭ লক্ষ জনসংখ্যার আনুমানিক ৩০ শতাংশ মানুষ ১৯টি উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী ৯,৬২,৬৯৭ জন মানুষ ত্রিপুরা, রিয়াং, জমাতিয়া, নোয়াতিয়া, কলই, রুপিনি, মুড়াসিং, উচই ইত্যাদি উপজাতি সম্প্রদায়ের ভাষায় কথা বলেন। এই সম্প্রদায়গুলোর সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার রক্ষায় স্বায়ত্তশাসনের ভূমিকা অপরিসীম।
২০২১ সালের নির্বাচনে তিপ্রা মথার বিজয়
২০২১ সালে সর্বশেষ এই উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন মাত্র দুই মাসের রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথা জেলা পরিষদের সাবেক শাসকদল সিপিআইএম কে ধরাশায়ী করে জেলা পরিষদের ২৮টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে একাই ক্ষমতা দখল করেছিল।
এই বিজয় ত্রিপুরার উপজাতি সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ভাষাগত অধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আর্থিক ক্ষমতায়নের প্রত্যাশা
প্রদ্যুৎ কিশোর জানিয়েছেন যে আসন্ন ভিলেজে কাউন্সিল নির্বাচনের পর হাজার হাজার কোটি টাকা সরাসরি রাজ্যের গ্রামে চলে যাবে। তিনি আরও বলেছেন, "আমাদের রাজ্যে গত নির্বাচনের পর থেকে দশ বছর হয়ে গেল, গণতন্ত্রের এমনই অবস্থা যে এটি (ভোট) করার জন্যে চাপ দিতে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছিল।"
আইনি সংগ্রাম ও সাফল্য
তিপ্রা মথা দলের আইনজীবী ভাস্কর দেববর্মা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে জুন মাসের মধ্যেই ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই আইনি বিজয় ত্রিপুরার উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করলে সফলতা আসে।
সাংস্কৃতিক উৎসবের বিবেচনা
রাজ্য বিধানসভায় সকল দল মিলে ১৩ এপ্রিলের পরিবর্তে ১২ এপ্রিল এডিসি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। কারণ ১৩ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ, বৈসু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের নতুন বছরের উৎসবের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত দেখায় যে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।