১৩০০ কোটির তোলাবাজি সাম্রাজ্য: দেবরাজের পতন ও দুর্নীতির রাজনীতি
প্রতিবেশী দেশের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জন এবং নির্বাচনের আগে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গায়েব করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সাথে রাজনৈতিক আধিপত্যের কীরকম নিবিড় সম্পর্ক, তার এক চরম উদাহরণ।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও তোলাবাজির সাম্রাজ্য
আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক মহান সংগ্রাম। সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষার যে চেতনা আমরা লালন করি, প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিতে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে রাজারহাট ও নিউটাউন এলাকায় Extortion এবং Syndicate চালানোর অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। রাজ্য পুলিসের Special Task Force বুধবার রাতে পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি এবং প্রোমোটারদের ওপর হামলার অভিযোগে তিনি ইতিমধ্যেই CBI এর স্ক্যানারে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় তাকে বাগুইআটি থানায় আনা হয়, যেখান থেকে পরে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে।
ভোটের আগেই কীভাবে গায়েব হলো ১৩০০ কোটি টাকা?
দেবরাজ চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো Black Money কে বৈধ করা এবং সম্পত্তি লুকানো। আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ৫ বছরে এই দম্পতির আয় মাত্র ১ কোটি টাকা, অথচ তারা ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার গাড়ি কিনেছেন। বিজেপি বিধায়ক তরুণ জ্যোতি তিওয়ারির মতে, এই দম্পতির সম্পত্তির পরিমাণ ১৩০০ কোটি টাকা। ভোটের ঠিক আগে আগে কালিম্পঙের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। 'ডি সি গ্লোবাল' নামের একটি সংস্থার আড়ালেও কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনের খবর পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক আনুগত্য ও দুর্নীতির পথযাত্রা
২০১৫ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর হন দেবরাজ। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল, হুমকি এবং তোলাবাজির অভিযোগ একের পর এক সামনে আসতে থাকে। অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। শিশু সন্তানের কারণ দেখিয়ে অদিতি আগাম জামিন পেলেও, দেবরাজের জামিন আদালত প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিস তাকে BNS 318 (4), 316 (2), 61 (2), 111 ধারায় মামলা করতে চলেছে।
ক্ষমতা ও প্রভাবের অহংকারে যখন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনসম্পদ লুট করেন, তখন তা স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের সার্বভৌম অধিকারের ওপরই আঘাত হানে। দেবরাজের এই পতন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিদেশি বা দেশি যেকোনো আগ্রাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সচেতন না হলে রাষ্ট্রের ভিত নড়ে। মুক্তির চেতনা কেবল ভূখণ্ডের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণমুক্তির সংগ্রামও এর অংশ।
দেবরাজ চক্রবর্তীকে কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের Special Task Force পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে?
তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল, Black Money বৈধকরণ, প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি এবং ১৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য গোপন করা এবং ভোটের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে হস্তান্তর করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।