স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পথে: ইউরোপের পাঁচ দেশের 'রিটার্ন হাব' পরিকল্পনায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, নিজের মাটি ও ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে কখনো পরনির্ভরশীল হওয়া চলে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজও আমাদের পথপ্রদর্শক। সেই চেতনার আলোয় আজ আমরা দেখছি, ইউরোপের পাঁচ দেশ—জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস—যৌথভাবে একটি 'রিটার্ন হাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই খবরটি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
কী এই 'রিটার্ন হাব' পরিকল্পনা?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে 'রিটার্ন হাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। এই পরিকল্পনার আওতায়, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। গ্রিস এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাসে আমরা সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করেছি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করি। আজ সেই চেতনা যখন ইউরোপের দেশগুলো আমাদের নাগরিকদের জন্য এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন। বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা যাতে অন্যায়ভাবে আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো না হয়, সে জন্য সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল পিছিয়ে যাচ্ছে
এদিকে দেশের অভ্যন্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) ঘোষণার প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আইএমএফের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ভাঙনের মুখে
দেশের রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর জোটের কর্মসূচিতে অংশ নেবে না। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও একই অবস্থান জানায়। হেফাজতে ইসলাম কওমিভিত্তিক সাতটি ইসলামী দলকে নিয়ে নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতের দাবি, এই উদ্যোগ সরকারবিরোধী আন্দোলন দুর্বল করার একটি ষড়যন্ত্র।
২৭ বছর ধরে আদালতে ঘুরছেন ৮ বিএনপি নেতাকর্মী
মানবজমিন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, ২৭ বছর আগে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে চলন্ত ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ যায় চালক নওশাদ নসুর। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। আসামি করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সহ ২৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর তদন্তের পর অভিযোগপত্রও দেয় পুলিশ। এতে প্রধান আসামিসহ অব্যাহতি দেয়া হয় ২০ জনকে। এরপর কেটে গেছে আরও প্রায় ২৪ বছর। মামলার ৮ আসামি এখনো আদালতে ঘুরছেন। বিচার এখনো শেষ হয়নি। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই আটকে আছে বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযোগপত্রে থাকা ১৭ সাক্ষীর কেউই ২৭ বছরে আদালতে এসে সাক্ষ্য দেননি।
ভুয়া জুলাই মামলা: এবার অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা শতাধিক মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায়, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেছে পুলিশ। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক মামলায় কাল্পনিক ঘটনা, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এমনকি কিছু মামলায় যাদের মৃত দাবি করা হয়েছিল, তারা জীবিত রয়েছেন। আবার কিছু অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এলএনজি টার্মিনাল অচল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ১,৫০০ মেগাওয়াট
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মেগাওয়াট কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যস্ত বেড়েছে।
সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন
সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলম গ্রুপকে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন বিষয় এখন সামনে চলে আসছে। দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও কম নয়। শুধু তাই নয়, গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে জুলাই গণহত্যায় তার সমর্থন থাকার বিষয়টিও।
মিরপুরে ২৫৯ ভরি সোনা চুরি, পলাতক পাঁচ প্রহরী
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দুটি গয়নার দোকান থেকে ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ওই মার্কেটের পাঁচজন নিরাপত্তাপ্রহরী। এই পাঁচ প্রহরী ভুয়া পরিচয়পত্র ও ঠিকানা দিয়ে সিকিউরিটি কম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন এবং সোনা চুরির মধ্য দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান।
চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশ: টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের বড় একটি অংশে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা এসডোর এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫ শতাংশ) অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা রয়েছে। শিশুদের টুথপেস্ট থেকে শুরু করে সংবেদনশীল দাঁতের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ টুথপেস্টও এর বাইরে নয়। গবেষকরা বলছেন, দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা নির্ধারণে কোনো জাতীয় মানদণ্ড বা নজরদারি ব্যবস্থা নেই।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় লোক নিয়োগ
সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের। এর আগে কখনোই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে একসঙ্গে এত দলীয় লোক নিয়োগ দিতে দেখা যায়নি। জনপ্রশাসনবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনীতিবিদদের নিয়োগের সুফল আগে পাওয়া যায়নি।
FAQ
ইউরোপের 'রিটার্ন হাব' পরিকল্পনা কী?
ইউরোপের পাঁচ দেশ (জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস) ইইউর বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয়প্রত্যাখ্যাতদের জন্য 'রিটার্ন হাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুযায়ী, আমাদের নাগরিকদের অন্যায়ভাবে বিদেশে পাঠানো রোধ করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি।
সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল কেন পিছিয়ে যাচ্ছে?
নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আইএমএফের সুপারিশও এতে ভূমিকা রেখেছে।
ছবি: বিবিসি