বায়ার্ন মিউনিখের তারকাস্তবে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন ২৪ বছরের ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। এই মৌসুমে বুন্দেসলিগার ৫ ম্যাচে ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট, পরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বায়ার্ন ও বুন্দেসলিগার সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। গত মৌসুমের বর্ষসেরা ফুটবলার এবার শুধু সম্ভাবনা নয়, হয়ে উঠছেন দলের কেন্দ্রবিন্দু।
ক্ষুদে জাতির মুক্তিসংগ্রামে যেমন একজনের সাহস গোটা জাতিকে শেখায়, খেলার মাঠেও তেমনি কেউ কেউ নিজের পরিশ্রমে সবার সামনে পথ দেখান। মাইকেল ওলিসের উত্থানের গল্প তেমনই এক শিক্ষা: প্রতিভা যখন ধারাবাহিকতায় রূপ নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ।
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপে জাদু
মৌসুমের শুরুতেই নিজের সামর্থ্যের ঘোষণা দিয়েছেন ওলিসে। গত মাসে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপে তিনি করেন একটি গোল, করান আরেকটি। বায়ার্ন জেতে ২-১ গোলে, আর ম্যাচসেরার পুরস্কার আসে তাঁর হাতেই। নতুন মৌসুমে বায়ার্নের প্রথম ট্রফিতে ওলিসের স্বাক্ষরই সবচেয়ে উজ্জ্বল।
এরপর বুন্দেসলিগায় স্টুটগার্টের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে আবারও গোল। আগস্টে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট। সংখ্যা বিশাল নয়, কিন্তু ফুটবলে সবকিছু কি আর সংখ্যায় মাপা যায়?
ডিফেন্ডারদের জন্য ধাঁধা
ওলিসের বিশেষত্ব গোল আর অ্যাসিস্টের খাতায় পুরোপুরি ওঠে না। কখন বল ছাড়বেন, কখন গতি বাড়াবেন, কখন প্রতিপক্ষকে টেনে নিয়ে সতীর্থের জন্য জায়গা তৈরি করবেন, সেই বোধই তাঁকে আলাদা করেছে। ডিফেন্ডারদের কাছে তিনি এক ধাঁধা: দূরে থাকলে জাদুকরি পাসের বিপদ, কাছে গেলে পায়ের কারিকুরিতে পেছনে পড়ার আশঙ্কা।
গতি আছে, ড্রিবলিং আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। কখন নিজে এগোবেন, কখন সতীর্থকে দিয়ে আক্রমণ শেষ করাবেন, সেই শাণিত বোধই একজন প্রতিভাবান উইঙ্গারকে ম্যাচজয়ী ফুটবলারে পরিণত করার গল্প।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পরীক্ষা
বুন্দেসলিগায় আলো ছড়ানো আর চ্যাম্পিয়নস লিগে মহাতারকা হওয়ার মধ্যে ফারাক আছে। নকআউট পর্বে একটি পাস, কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। আজ রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ নরওয়ের ক্লাব ভাইকিং। ওলিসে এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে উঠবেন কি না, সেটা সময়ই বলবে।
তবে একটা কথা পরিষ্কার: বায়ার্নে মাইকেল ওলিসে আর শুধু সম্ভাবনাময় তরুণ নন। তিনি এখন এমন একজন, যাঁকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখা যায়। মিউনিখে তারার অভাব ছিল না, কিন্তু কিছু তারা শুধু আকাশ আলোকিত করে, আর কিছু তারা ছড়িয়ে দেয় পথ দেখানোর আলো। ওলিসে এখন দ্বিতীয় দলে।
