বিন্দু থেকে সিন্ধু: সাবাহ এফকে-র স্বপ্নযাত্রা আজ ওল্ড ট্রাফোর্ডে
২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জন্ম নেওয়া এক ক্লাব আজ দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে। মাত্র নয় বছর বয়সী সাবাহ এফকে আজ রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে। এই গল্পটি কেবল একটি ফুটবল ক্লাবের উত্থানের নয়, এটি সেই সব মানুষের জন্য প্রেরণা, যাঁরা বিন্দু থেকে সিন্ধু গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
সাবাহ এফকে-র জন্ম ও প্রথম যাত্রা
আজারবাইজানি উদ্যোক্তা ইয়াকুব হুসেইনভ তাঁর ব্রিজেস গ্রুপ অব কোম্পানিজের মাধ্যমে ২০১৭ সালে সাবাহ এফকে প্রতিষ্ঠা করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ইগর পনোপারেভসহ多名 শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্বকে প্রশাসনিক পর্ষদে যুক্ত করেন তিনি। প্রথম মৌসুমে আজারবাইজানের প্রথম বিভাগে (দ্বিতীয় স্তর) পঞ্চম হয়ে শেষ করে ক্লাবটি।
ভাগ্যের জোরে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হয় সাবাহ। আজারবাইজান ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএফএ) লাইসেন্সিং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় তৎকালীন শীর্ষ চার দল। অন্যদিকে প্রশাসনিক ও আর্থিক যাচাই-বাছাইয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সরাসরি শীর্ষ লিগে খেলার সুযোগ পায় সাবাহ।
ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া: কনফারেন্স লিগ থেকে ইউরোপা লিগ
পরের তিন বছরে দলটির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। সপ্তম, ষষ্ঠ ও পঞ্চম হয়ে শেষ করে মৌসুম। এর মধ্যে 'ব্যাংক রিপাবলিকা'র সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি সই করে ক্লাবটি। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হয় সাবাহ, যা তাদের প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা এনে দেয়।
উয়েফা কনফারেন্স লিগে তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় তারা। পরের মৌসুমেও একই পরিণতি। তবে সে মৌসুমে আজারবাইজান কাপ জিতে ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে সাবাহ।
ভালদাস দামব্রসকাস: টিভি শো থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ডাগআউটে
গত গ্রীষ্মে ক্লাবটিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটে। কোচের দায়িত্ব নেন লিথুয়ানিয়ান ভালদাস দামব্রসকাস, যিনি কখনো পেশাদার হিসেবে ফুটবল খেলেননি। ২৩ বছর বয়সে বুট তুলে রেখে 'কে হতে চায় কোটিপতি'র লিথুয়ানিয়ান সংস্করণে অংশ নিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড জেতেন তিনি। সেই অর্থ দিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান কোচ হওয়ার প্রবল বাসনায়।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি উয়েফা কোচিং ব্যাজ অর্জন করেন দামব্রসকাস। পড়ার খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হকারি, বাচ্চাকাচ্চা দেখাশোনা ও রঙের কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সকার স্কুলের কোচিং পদে সাক্ষাৎকারের জন্য ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসেছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের সেই চাকরি তাঁর বড় কিছুর দ্বার খুলে দেয়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে সাবাহর ঐতিহাসিক অর্জন
দামব্রসকাসের অধীনে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আজারবাইজান প্রিমিয়ার লিগ ও কাপ জেতে সাবাহ। এরপর প্লে-অফ পর্বে ইসরায়েলি ক্লাব হ্যাপোয়েলকে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে জায়গা করে নেয় ক্লাবটি। জন্মের মাত্র ৯ বছরের মাথায় এক মৌসুমে লিগ, কাপ জেতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়া সত্যিই অসাধারণ।
ঐতিহাসিক সেই অর্জনে উল্লাস করেছিল পুরো বাকু শহরই। আজ রাতে যখন দামব্রসকাস ওল্ড ট্রাফোর্ডের ডাগআউটে বসবেন, তখন তাঁর ২২ বছর আগের সেই চক্র পূরণ হবে।
অর্থের নাকি তথ্য বিশ্লেষণের শক্তি বেশি?
অঢেল অর্থ দিয়ে খেলোয়াড় কেনার সামর্থ্য নেই সাবাহর। তাদের স্কোয়াডের মূল্য মাত্র ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো, যা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাৎসরিক বেতনের সমান। প্রতিপক্ষ এবং নিজেদের ডেটা অ্যানালাইসিস (তথ্য বিশ্লেষণ) সাবাহর শক্তির জায়গা।
সাবাহর সভাপতি মাকসুদ আদিগোজালভের ভাষায়, 'আর্থিকভাবে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সাধ্য আমাদের ছিল না। তাই আমাদের নিজস্ব শক্তি খুঁজে বের করতে হয়েছে। আমরা