৫ হাজার ছাত্রছাত্রীর চিত্রাঙ্কনে স্বাধীনতার গৌরবগাথা
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছে স্বাধীনতার অমর কাহিনী। বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ আয়োজিত 'ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫'-এ সারাদেশের ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চিত্রাঙ্কন উৎসবের জন্ম দেয়।
গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ১৪৩ জন প্রতিভাবান শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার। এই অনুষ্ঠান শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রোথিত করার এক মহান প্রয়াস।
৩০ লাখ শহীদের রক্তের ইতিহাস ক্যানভাসে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, "এই ঐতিহাসিক মেগা আর্ট ওয়ার্কশপটি শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বদলে দিতে পারে।"
বিশেষ অতিথি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের ইতিহাস।"
বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিকাশ
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, "৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার মহাকাব্য এবং চুয়ান্নর ভাষা আন্দোলনের দ্রোহের আগুন এই দুই সংগ্রামের ইতিহাসকে এক ক্যানভাসে তুলে ধরতে খুদে শিল্পীদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে গৌরবের।"
প্রতিযোগিতায় তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি পৃথক বিভাগ রাখা হয়। জুরি বোর্ডে ছিলেন লোকজ শিল্পের রূপকার আবদুস শাকুর শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ড. ফরিদা জামান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আফজাল হোসেনসহ দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
শিল্পী মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শিল্পচর্চা কেবল শিল্পী হওয়ার জন্য নয়, বরং যে কোনো পেশায় সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং নীতি ও নন্দনতত্ত্ব শেখার জন্য অপরিহার্য। শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা সমাজে সহিংসতা রোধে এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আগামী বছর থেকে এই প্রতিযোগিতা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও সম্প্রসারিত হবে বলে জানানো হয়। এভাবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে।