আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমান: স্বাধীন বাংলাদেশের পরবর্তী নেতৃত্ব
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী 'দ্য ডিপ্লোম্যাট' বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে।
এই বিশ্লেষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 'অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান-লাইকলি বাংলাদেশস নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার' শীর্ষক প্রবন্ধে একাধিক জনমত জরিপের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
জনমতে এগিয়ে বিএনপি
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ব্লুমবার্গ, টাইম ও দ্য ইকোনমিস্টসহ বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে। এবার 'দ্য ডিপ্লোম্যাট' তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বরে পরিচালিত জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসালটিং পরিচালিত আরেকটি জরিপে ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
তরুণ প্রজন্মের সমর্থন
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, 'জেন-জেড' হিসেবে পরিচিত তরুণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে, বিশেষত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমগুলোতে।
তারেক রহমান জেন-জেডের চিন্তাধারার সাথে তার দলের সংযোগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমি মনে করি, এগুলো জেন-জেডের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংগতিপূর্ণ।"
বাংলাদেশ ফার্স্ট: স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় তারেক রহমান পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে "বাংলাদেশ ফার্স্ট" নীতির কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
"আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি। আমরা অর্থনীতিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব, যা বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করবে।" - এই বক্তব্যে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল চেতনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্য
বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার সম্পর্কে তারেক রহমান বলেছেন, "১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে - পোশাক শিল্প ও প্রবাসী আয়, যা বিএনপি সরকারের সময়েই চালু হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি আইটি খাত, সেমি কন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অঙ্গীকার
ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমান শক্তিশালী আর্থিক শাসনব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার অঙ্গীকার হলো "একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।"
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "অতীতে মাত্র ২০ ফুট খনন করলেই ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়া যেত। আজ ৩০০ ফুট খনন করেও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না।"
জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা
পরিশেষে তারেক রহমান বলেছেন, "আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখব। জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব - এটাই দেশের মানুষের প্রতি আমার অঙ্গীকার।"
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া বাংলাদেশের জন্য এই অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।