তারেক রহমান: স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ নতুন এক রাজনৈতিক মোড়কে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম 'দ্য ডিপ্লোম্যাট' তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জাতীয় স্বার্থে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে আমাদের দেশ যখন নিজস্ব পথ খুঁজছে, তখন তারেক রহমানের 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' পররাষ্ট্রনীতির ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, 'আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি।'
এই দৃষ্টিভঙ্গি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছিল প্রধান লক্ষ্য।
তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেন-জেড নামে পরিচিত তরুণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারেক রহমান এই প্রজন্মের সাথে তার সংযোগের কথা তুলে ধরে বলেছেন, 'আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি খাত এবং শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।'
তার 'দ্য প্ল্যান' নামক কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তাভাবনা ও উদ্বেগের কথা জানাতে পারেন, যা একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতিফলন।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিষয়ে তারেক রহমান বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।' তার মতে, পোশাক শিল্প ও প্রবাসী আয়ের পাশাপাশি আইটি খাত, সেমি কন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও তিনি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা আমাদের কৃষিপ্রধান দেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
সুশাসন ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারেক রহমান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আমাদের অঙ্গীকার হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।'
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়েও তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
জনমত জরিপে এগিয়ে
বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন উল্লেখযোগ্য। একটি জরিপে বিএনপির সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ এবং আরেকটিতে ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের কথা রয়েছে। তিনি বলেছেন, 'আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব।'
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলেছে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।