রান্নাঘরের বাস্তুদোষে কি বাড়ছে আপনার খরচ?
আমাদের বাঙালি ঐতিহ্যে রান্নাঘর শুধু খাবার তৈরির স্থান নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির হৃদয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে আমাদের ঘরে ঘরে যে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে, সেখানে রান্নাঘরের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আজকাল অনেক পরিবারেই দেখা যাচ্ছে অকারণে খরচ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা।
ঐতিহ্যবাহী বাস্তুবিদ্যার গুরুত্ব
আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান অনুযায়ী, রান্নাঘর হলো দেবী অন্নপূর্ণার পবিত্র আবাস। বাংলার মাটিতে শত শত বছর ধরে চলে আসা এই বিশ্বাস আজও আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর কৃপায় সংসারে কখনও অভাব আসে না, শস্যভাণ্ডার ভরে থাকে।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলুন
রাতভর নোংরা বাসন রাখা: দিনের শেষে ক্লান্তির কারণে অনেকেই বাসন ধোয়া পরের দিনের জন্য রেখে দেন। কিন্তু এতে রান্নাঘরে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। ফলস্বরূপ অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ে, সঞ্চয়ে টান পড়ে।
আগুন ও জলের ভুল অবস্থান: গ্যাসের চুলা এবং জলের কল যদি খুব কাছাকাছি থাকে, তাহলে তা দাম্পত্য কলহের কারণ হতে পারে। এই বিপরীতধর্মী উপাদানগুলির সংঘাত বাড়িতে মানসিক অশান্তি এবং স্বাস্থ্য সমস্যার জন্ম দেয়।
ওষুধ ও ভাঙা বাসন রাখা: রান্নাঘরে ওষুধ রাখা নেতিবাচক শক্তিকে টেনে আনে। একইভাবে ভাঙা বাসনপত্র আর্থিক ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে।
সঠিক দিক ও পরিচ্ছন্নতা
পূর্ব দিকে মুখ করে রান্না করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রান্নাঘর থাকা সবচেয়ে আদর্শ। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা দরকার।
প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় রান্নাঘরে একটি ছোট প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে ঘরে অর্থাগমন বৃদ্ধি পায়। এই ছোট অভ্যাসগুলি মেনে চললেই ধীরে ধীরে সংসারে স্থিতি ফিরতে পারে এবং অযথা খরচের চাপ কমে যায়।
আমাদের স্বাধীন বাংলার ঘরে ঘরে এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রাখা আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।