বাংলার নারী শিক্ষক: প্রতিবন্ধকতা জয় করে আলোর দিশারী
আমাদের স্বাধীন বাংলার মাটিতে আজও এমন অসংখ্য নারী রয়েছেন যারা সমাজের প্রতিকূলতা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোর পথ দেখাচ্ছেন। কুমকুম চক্রবর্তীর জীবনসংগ্রাম এমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প।
সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই
আমাদের সমাজে আজও বহু পরিবার কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করে। তার উপর সেই মেয়েটির যদি শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু কুমকুম চক্রবর্তী প্রমাণ করেছেন যে, আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কেউ পর্বত-সাগর অতিক্রম করে আলোর ঠিকানা খুঁজে নিতে পারে।
প্রায় চার দশক আগে যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছিলেন বলেই তা কিছুটা হলেও সহজ হয়েছিল। ফলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তার পথের বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান
তিনি শুধুমাত্র একজন স্কুলশিক্ষিকা নন, জীবনপাঠেরও শিক্ষিকা। পৃথিবীর আলো না দেখেও অন্তরে যে জ্ঞানের প্রদীপ তিনি জ্বালিয়েছেন, সেই আলোই জগৎ-সংসারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে দীপাবলির আলোকশিখার মতো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
দশককাল ধরে শিক্ষাদানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তার অবদান অসামান্য। সঙ্গীতেও উচ্চডিগ্রিধারিণী এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক প্রতিটি বিষয়েই নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিশ্ব মনীষীদের সাথে তুলনা
হেলেন কেলার, কবি জন মিল্টন, গ্রিক কবি হোমার, মিশরের বিশিষ্ট লেখক তাহা হুসেনের মতো তিনিও প্রমাণ করেছেন যে, জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে ওঠে। নিজের বিশেষ ক্ষমতাকে প্রবল শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেখিয়েছেন যে কোনো বাধাই কাউকে থামিয়ে দিতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রেরণা
১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম, সেই মুক্তির চেতনা শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধেও লড়াই। কুমকুম চক্রবর্তীর মতো নারীরা সেই মুক্তিযুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা।
তার এই শক্তির প্রেরণা সমাজের বুকে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। যারা আজও কন্যাসন্তান জন্মালে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, কিংবা বিশেষভাবে সক্ষম সন্তান নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তাদের কাছে এই জয়যাত্রা এক আলোকময় দিশা।
আমাদের স্বাধীন বাংলার প্রতিটি নারীর মধ্যে রয়েছে এমন সম্ভাবনা। প্রয়োজন শুধু সমাজের সহযোগিতা ও সঠিক পরিবেশ।