প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগ: বাংলার বামপন্থী রাজনীতির সংকট
বাংলার রাজনীতিতে আরেকটি উদ্বেগজনক অধ্যায়। তরুণ বামপন্থী নেতা প্রতীক উর রহমানের সিপিআইএম থেকে ইস্তফা বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তরুণ নেতৃত্বের প্রস্থান
বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে এই ঘটনা বাংলার বামপন্থী রাজনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা। প্রতীক উর রহমান শুধু একজন তরুণ নেতা নন, বরং দলের লড়াকু মানসিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। SFI-এর দুইবারের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াই করা এই নেতার দলত্যাগ সিপিআইএমের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক উরের এই পদক্ষেপের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে তার অসন্তুষ্টি কাজ করেছে। দলের কিছু নির্দিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই তরুণ নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন
প্রতীক উর রহমান প্রান্তিক মুসলিম সমাজ থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তার প্রস্থান সংখ্যালঘু সমাজে 'ভুল বার্তা' পাঠাতে পারে বলে দলের দক্ষিণবঙ্গের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অতীতে সইফুদ্দিন চৌধুরী বা আব্দুস সাত্তারদের মতো সংখ্যালঘু নেতাদের প্রস্থান সিপিআইএমকে বারবার বিড়ম্বনায় ফেলেছে।
বিমান বসুর মধ্যস্থতা
এই সংকট মোকাবেলায় দলের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু এগিয়ে এসেছেন। তিনি প্রতীক উরকে আলিমুদ্দিনে আসতে বলেছেন এবং রাজ্য দপ্তরেও ডাকা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো স্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে যে, প্রতীক উর তৃণমূল বা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। বিজেপির তরফ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর। তবে তিনি এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বাংলার বামপন্থী রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ধরে রাখতে না পারলে সিপিআইএমের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।