নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ভয়: স্বাধীনতার মূল্য কি এই নিরাপত্তাহীনতা?
১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে অস্ত্র ছিল স্বাধীনতার হাতিয়ার, আজ সেই অস্ত্রই হয়ে উঠেছে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুইদিন বাকি থাকতে ভোটের মাঠে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
স্বাধীনতার চেতনার বিপরীতে অস্ত্রের রাজত্ব
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় আজ নির্বাচনী প্রচারে খুনাখুনি ও সহিংসতা দেখতে হচ্ছে। প্রার্থীদের সমর্থকরা নানাভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে তৎপর হওয়ার সময় ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। এই পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান।
সীমান্তপথে নানাভাবে অবৈধ অস্ত্রের আমদানির ঘটনা বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে। এসব ঘটনা অনেক ভোটারের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভীতি সৃষ্টি করেছে।
লুণ্ঠিত অস্ত্র: জাতির জন্য হুমকি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের এক হাজার ৩৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র গত ১৭ মাসেও উদ্ধার হয়নি। দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল।
এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর অস্ত্রও রয়েছে। পুলিশ বলছে, এর বেশির ভাগ চলে গেছে সন্ত্রাসীদের হাতে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট: সীমিত সাফল্য
রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার পর থেকে দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ শুরু হয়। এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ৭২৫টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালান: জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি
গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ২৭টি সীমান্তবর্তী জেলায় সক্রিয় রয়েছে প্রায় ৭০০ 'লাইনম্যান'।
এই পরিস্থিতি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, তা রক্ষা করতে হলে এই অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে সহিংসতায় দলীয় কোন্দল ও অন্তঃকোন্দলে পাঁচজন নিহত হয়েছে। ৯৭০ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে।
গত ১৩ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় তিন শতাধিক বিভিন্ন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নিহত হয়েছে শতাধিক। এই পরিসংখ্যান আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিজিবির প্রচেষ্টা ও চ্যালেঞ্জ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে সম্প্রতি ৬৪টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চার হাজার রাউন্ডের বেশি গুলিসহ শতাধিক হাতবোমা, হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,