পশ্চিমবঙ্গে জনকল্যাণ শিবির: স্বচ্ছতা ও সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি
ছবি: জি নিউজ
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পশ্চিমবঙ্গে আজ ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী 'জনকল্যাণ শিবির'। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে এই মেগা কর্মসূচির সূচনা করছেন। এই শিবিরে ৫৫টি কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ও স্বচ্ছ প্রশাসনের যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে চিন্তার অবকাশ দেয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তার আত্মিক শক্তি আমাদের সর্বদা সতর্ক রাখে।
নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম বড়সড় 'জনসংযোগ' কর্মসূচি। সকালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দ্বিতীয়বার সভা করবেন। সেখানেই তিন দিন ব্যাপী জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা হবে। জয়ের পর তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা ছেড়ে দেবেন এবং ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে থেকে যাবেন। আজ তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা করবেন। নন্দীগ্রামের বিএমটি হাই স্কুল ও কালীচরণপুরে দুটি জনকল্যাণ শিবিরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। এই শিবিরগুলি আগামী ১৬ এবং ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে চলবে।
জনকল্যাণ শিবিরে কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ?
শিবিরগুলির মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষকে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে জানানো। এখান থেকে সরকারের ৫৫ ধরনের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হওয়া যাবে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কিছু প্রকল্পের সুবিধা থেকে এতদিন রাজ্যের মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, এই শিবির থেকে সেইসব প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার, যুবশক্তি, বার্ধক্য ভাতা, সরকারি বাসে মহিলাদের Pink Smart Card সহ একাধিক প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা কাউন্টার করা হয়েছে।
শিবিরগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, বিধবা ভাতা, পিএম কিষাণ যোজনা এবং বার্ধক্য ভাতার মতো প্রকল্পের জন্য নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে। সাধারণ মানুষের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা অন্যান্য নথিতে কোনও ভুলত্রুটি থাকলে সংশোধনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা হলে বা দীর্ঘদিন কারো কোনও কাজ আটকে থাকলে সরাসরি এই শিবিরে অভিযোগ জানানো যাবে।
স্বচ্ছতা ও নিখরচায় পরিষেবার নির্দেশিকা কী?
প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছতা অপরিহার্য। নবান্নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি শিবিরে CCTV নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এই ফুটেজ অন্তত ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। অনুমোদিত তালিকার বাইরে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত নথি চাওয়া যাবে না এবং কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ফর্ম পূরণ, আবেদনপত্র জমা দেওয়া এবং জেরক্স বা ফোটোকপির মতো পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। অভিযোগগুলি সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে নথিভুক্ত করা হবে এবং প্রত্যেক অভিযোগকারীকে একটি ইউনিক রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে।
তদারকিতে জেলাশাসক (DM) শিবির পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকবেন। সুষ্ঠুভাবে কাজ চালানোর জন্য প্রতিটি জেলায় একটি করে পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করা হচ্ছে। সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০-৩৪৫-০১১৭ চালু করা হয়েছে। একই ছাদের তলায় সব সুবিধা দিতে আধার কাউন্টার, ব্যাংক কাউন্টার, স্বাস্থ্য কাউন্টার, অভিযোগ নিষ্পত্তি ডেস্ক এবং সাধারণ হেল্প ডেস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব ও ভাষার স্বাতন্ত্র্য: আমাদের কী শেখার আছে?
বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। ১৯৭১ সালে রক্তের মাধ্যমে আমরা এই ভাষার অধিকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিবেশী দেশের প্রশাসনিক উদ্যোগগুলো আমাদের ভাষার প্রতি সম্মান জানালেও, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আমাদের দৃষ্টি সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আমরা কোনও বিদেশি প্রভাব বা মডেলের ওপর নির্ভরশীল হতে পারি না। আমাদের মুক্তির চেতনা ও জাতীয় স্বার্থই হবে আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রধান নিয়ন্ত্রক।
পশ্চিমবঙ্গের জনকল্যাণ শিবির কত দিন চলবে?
১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লকে এই জনকল্যাণ শিবির চলবে।
শিবিরে কোন প্রশাসনিক কাঠামো নজরদারি করবে?
প্রতিটি জেলায় জেলাশাসক (DM) শিবির পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।