বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নিয়ে ভারতের ফুটবল ও ক্রিকেটে অমর হয়ে আছেন চুনী গোস্বামী। ১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার যশোদল গ্রামে তাঁর জন্ম। বর্তমানে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্তর্গত। দেশভাগের আগে ১৯৪২ সালে মাত্র চার বছর বয়সে পরিবার কলকাতায় চলে যায়। কিন্তু তাঁর শিকড় যে বাংলাদেশের মাটিতে প্রোথিত, তা কখনো ভোলার নয়।
বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের সোনালি যুগের অধিনায়ক
চুনী গোস্বামী ভারতীয় ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম মুখ। তাঁর নেতৃত্বে ভারত ১৯৬২ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জেতে। ১৯৬৪ সালের এএফসি এশিয়ান কাপে ভারত রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়ে। অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।
মোহনবাগানের আজীবনের নায়ক
চুনী গোস্বামীর পুরো ঘরোয়া ফুটবল কেরিয়ার কেটেছে মোহনবাগান ক্লাবের জার্সিতে। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি দলের অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে মোহনবাগান টানা তিনটি ডুরান্ড কাপ এবং চারটি কলকাতা ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে। ক্লাবের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের ট্রায়ালের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ক্রিকেটেও অসাধারণ সাফল্য
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর চুনী গোস্বামী ক্রিকেটে মন দেন। বাংলার হয়ে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট খেলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে বাংলা দল রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ওঠে। ১৯৬৬ সালে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের যৌথ একাদশের হয়ে এক ইনিংসে আটটি উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে।
বিরল কীর্তির মালিক
ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে চুনী গোস্বামী এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনিই একমাত্র ভারতীয় ক্রীড়াবিদ যিনি একদিকে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন, অন্যদিকে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে রাজ্য দলকে রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জুন পুরস্কার (১৯৬৩) এবং পদ্মশ্রী (১৯৮৩) সম্মানে ভূষিত হন।
প্রশ্নোত্তর
চুনী গোস্বামীর জন্ম কোথায়?
চুনী গোস্বামীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার যশোদল গ্রামে। বর্তমানে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্তর্গত।
তিনি কেন টটেনহ্যাম হটস্পারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন?
মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই তিনি ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের ট্রায়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
চুনী গোস্বামীর ক্রিকেট ক্যারিয়ার কেমন ছিল?
প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ৪৬ ম্যাচে ১,৫৯২ রান করার পাশাপাশি ৪৭ উইকেট শিকার করেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে বাংলা দল রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ওঠে।
তিনি কবে এবং কীভাবে মারা যান?
২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হন চুনী গোস্বামী।
বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মহান ক্রীড়াবিদ ভারতীয় ফুটবল ও ক্রিকেট দুই খেলার ইতিহাসেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর সাফল্য, ব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে রেখে যাওয়া অবদান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।