স্বাধীনতার ৫০ বছরে কেপ ভার্দে: মুক্তির আত্মবিশ্বাসে বিশ্বজয়
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে বা কাবো ভার্দে (Cabo Verde) ফুটবলের মাঠে যেমন ছক ভেঙেছে, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালে ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জনের পর তারা জাতিসত্তার আত্মবিশ্বাসে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো কেপ ভার্দের মুক্তিসংগ্রামও প্রমাণ করে, বিদেশি শক্তির সংশয় আর প্রতিকূলতা কখনও একটি স্বাধীন জাতির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখতে পারে না।
মাঠের লড়াই ও মুক্তির আত্মবিশ্বাস
আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দশটি দ্বীপের এই রাষ্ট্র এবারের গ্রীষ্মে ফুটবলের মাঠে যে অসাধারণ লড়াই দেখিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। স্পেনের বিরুদ্ধে ০-০ গোলে ড্র করে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। শনিবার বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে গত চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে তারা প্রায় ১২০ মিনিট পর্যন্ত চরম বিপর্যয়ে ফেলেছিল। দুইবার এগিয়ে গিয়েও আর্জেন্টিনা তাদের এগিয়ে থাকা ধরে রাখতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে রোমেরোর গোলেই কোনওমতে জয় পায় লাতিন আমেরিকার দলটি। সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের এই দেশটির গোলরক্ষক ভোজিনহাও টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মুখে পরিণত হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসরণকারী জুন মাসের শেষে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১ কোটি ৭৪ লক্ষেরও বেশি হয়েছে।
পর্তুগিজ ঔপনিবেশিকতা ও আমিলকার কাবরালের মুক্তিসংগ্রাম
প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব এবং ঘন ঘন খরার কারণে বিপর্যস্ত এই দ্বীপপুঞ্জ ১৪৬০-এর দশকে পর্তুগিজদের পদাঘাতে পরাধীন হয়। সান্তিয়াগো দ্বীপে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে ইউরোপীয়দের প্রাচীনতম বসতি 'রিবেইরা গ্রান্দে' বা বর্তমানের সিদাদে ভেলহা (Cidade Velha) গড়ে ওঠে। এই শহরটি আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ক্রীতদাস প্রথার অবসানের পর এখানে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় শুরু হয়, তা চলতে থাকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। গিনি-বিসাউয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দ্বীপপুঞ্জটি শৃঙ্খল মুক্ত করে।
এই স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন আমিলকার কাবরাল (Amilcar Cabral)। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের মতোই তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আফ্রিকার সংগ্রামে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কূটনৈতিক দক্ষতায় তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই অনুগতহৃদয় মনোভাব আমাদের ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
'টিকে থাকার অযোগ্য রাষ্ট্র' অপবাদ থেকে স্বমহিমায় উত্থান
স্বাধীনতা অর্জনের পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার কেপ ভার্দেকে একটি