ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্নীতির ছায়া: বিসিসিআইয়ের নজরে রাজ্য লিগ, জুয়াড়ি-যোগের অভিযোগ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা শাখার (এসিএসইউ) নজরে এসেছে বিভিন্ন রাজ্যের টি-টোয়েন্টি লিগ। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন কিছু ক্রিকেটার, দলের মালিক এবং রাজ্য সংস্থার কর্তারা। এই খবর আমাদের স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের জন্যও একটি শিক্ষণীয় দিক, কারণ ক্রীড়ার মাঠে শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা জাতীয় গর্বের বিষয়।
কীভাবে শুরু হলো সন্দেহ?
বিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগের (টিএনপিএল) কিছু ম্যাচ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। টিএনপিএলের কয়েকটি দলের ম্যাচে অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক ঘটনা চোখে পড়েছে। এসিএসইউ কর্মীদের ধারণা, জুয়াড়িদের সঙ্গে ক্রিকেটার, মালিক ও কর্তাদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা খেলার আগেই কিছু বিষয় ঠিক করে রাখে।
কেন রাজ্য লিগগুলো ঝুঁকিতে?
আইপিএল এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির পর জুন থেকে অগস্টের মধ্যে রাজ্যগুলির টি-টোয়েন্টি লিগ হয়। মুম্বই, বাংলা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, দিল্লি, পাঞ্জাবসহ একাধিক রাজ্যে এই লিগগুলো অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ লিগই তেমন জনপ্রিয় নয়, তাই নজর পড়ে কম। এই সুযোগই কাজে লাগায় জুয়াড়িরা। দ্রুত বেশি আয়ের লোভে জুয়াড়িদের ফাঁদে পা দেন ক্রিকেটার, কর্তা ও আয়োজকেরা।
কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি
বিসিসিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছেন, ''জুয়াড়িরা যে ভাবে কাজ করে তাতে ক্রিকেটার, কর্তা, আয়োজক, দল মালিকেরা ফাঁদে জড়িয়ে যান। অনেকে সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকে এসিএসইউয়ের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে কড়া শাস্তি পেতে হবে।''
গত বছর রঞ্জি অভিষেক হওয়া এক অলরাউন্ডার টিএনপিএলের ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে বসে মেসেজ করেন। পরে জানা যায়, তিনি প্রেমিকাকে মেসেজ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে অপরাধমূলক কিছু পাওয়া না গেলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এসিএসইউ।
তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থার প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় অস্বস্তিতে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারাও। সংস্থার সভাপতি টিজে শ্রীনিবাসরাজ বলেছেন, ''আমরা সব সময় বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন এবং নিরাপত্তা শাখা এবং টিএনপিএলের নির্দেশিকা, আইন কঠোর ভাবে মেনে চলার পক্ষে। আমরা এসিএসইউয়ের কর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা করছি। পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ক্রিকেটই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।''
বিসিসিআই সচিবের আশ্বাস
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেছেন, ''টিএনপিএলে একটি ছোট ঘটনা ঘটেছে। এসিএসইউ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। আমাদের দুর্নীতি দমন শাখা অত্যন্ত সক্রিয় এবং সজাগ। ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব সময় কাজ করছে এসিএসইউ।''
২০১৮ সাল থেকেই নির্দেশিকা
২০১৮ সালেই রাজ্য টি-টোয়েন্টি লিগগুলির জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছিল বিসিসিআই। সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয় নিয়মকানুন। ২০১৯ সালেও টিএনপিএলের সঙ্গে জুয়াড়িদের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই ঘটনার তদন্তও করেছিল বিসিসিআই, যদিও সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
ক্রীড়ার শুদ্ধতা: আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে আমরা বাংলাদেশিরা সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও শুদ্ধতা রক্ষায় সচেষ্ট। ক্রীড়ার মাঠও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশের ক্রিকেটসহ সব খেলায় যেন দুর্নীতির ছায়া না পড়ে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি দেশপ্রেমিকের কর্তব্য। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, আমরা সব বাধা পেরিয়ে এগিয়েছি; ক্রীড়াঙ্গনকেও আমরা সেই চেতনায় পরিচ্ছন্ন রাখব।