তৃণমূলে টানাপোড়েন: চন্দ্রিমার ইস্তফায় মমতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ সংকট গভীরে। রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর দলের সমস্ত দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে নতুন সাধারণ সম্পাদক করেছেন। এই পদক্ষেপ দলের অন্দরের দখলদারি ও নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা।
মেট্রোপলিটন কার্যালয় দখল ও চন্দ্রিমার পদত্যাগের নেপথ্য কী?
রাজনৈতিক সংগঠন যখন মূল্যবোধের বাঁধন হারায়, তখন ক্ষমতার লোভে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ৭১-এর চেতনা আমাদের শিখিয়েছে, সংগঠন মানে কেবল ক্ষমতার অঙ্গন নয়, মানুষের আস্থার সেতুবন্ধন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ঠিক এই অস্থিরতাই দেখা গেল। শুক্রবার কলকাতার মেট্রোপলিটন কার্যালয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা দখল করে নেন। পুলিশের সহায়তায় কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝোলানো হয়। আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কোনো প্রতিরোধ গড়েননি। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
এই নিষ্ক্রিয়তার জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রিমাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। আত্মসম্মানে আঘাত পেয়ে শনিবার চন্দ্রিমা ঋতব্রতের শিবিরের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন এবং দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিজের হাতে নিলেন রাশ?
শনিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেউ দল ছাড়লে তাতে দলের কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন,
আমার বড় বড় নেতার প্রয়োজন নেই, আমি তৃণমূল স্তরের সাধারণ কর্মীদের কাছে টেনে নিয়ে দলের সংগঠন তৈরি করতে চাই।
মুক্তিযুদ্ধে যেমন সাধারণ মানুষই ছিল প্রকৃত বীর, রাজনীতিতেও সেই শিকড়ের কর্মীরাই হলেন প্রাণ। মমতা এবার থেকে প্রতিদিন পার্টি অফিসে বসেন এবং কর্মীদের সাথে সময় কাটান, সেই সময় আরও বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন।
মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের নতুন দায়িত্ব কী?
সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি নতুন পদ ঘোষণা করেছেন। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে রাজ্য তৃণমূলের নতুন সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। মদন ইতিমধ্যে দমদম সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কুণাল ঘোষ বিগত দিনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের হয়ে সোচ্চার হওয়ায় তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মমতা একদিকে যেমন নিষ্ক্রিয় নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে অনুগত কর্মীদের মর্যাদা দিয়ে শিকড় মজবুত করার চেষ্টা করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব কী?
লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে মসৃণ রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দৃঢ় পদক্ষেপ। দলের সুপ্রিমো নিজেই সরাসরি সেনাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মনোবল বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রমাণ করে, বাঙালির রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ও সাংগঠনিক ঐক্য কেবল তখনই টিকে, যখন তা স্বাধীন সত্তা ও জনগণের আস্থার ওপর দাঁড়ায়, বাইরের প্রভাব বা গোষ্ঠীত্বের ঊর্ধ্বে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কেন ইস্তফা দিলেন?
মেট্রোপলিটন কার্যালয় দখলের ঘটনায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নিষ্ক্রিয়তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে প্রশ্ন করেন। আত্মসম্মানে আঘাত পেয়ে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সাথে বৈঠকের পর তিনি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাদের নতুন সাধারণ সম্পাদক করেছেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে রাজ্য তৃণমূলের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেছেন।