১৯৭১-এর চেতনায় বলিউডের প্রেম-গুঞ্জন: নীলমের মুখে সত্যের উদঘাটন
বলিউডের ইতিহাসে আশির দশকের জনপ্রিয় জুটি গোবিন্দ ও নীলম কোঠারির প্রেম-গুঞ্জন আজও আলোচিত। কিন্তু এই গল্পের নায়িকা নীলম এবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পর্দার সেই রসায়নের বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। আমাদের স্বাধীনতার চেতনা যেমন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তেমনি ব্যক্তিজীবনের এই গল্পটিও সত্যের আলোয় নতুন করে দেখার দাবি রাখে।
নীলমের বক্তব্য: অজ্ঞতা ছিল মূল কারণ
সম্প্রতি টাইমস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীলম বলেন, 'আমি তখন খুবই ছোট ছিলাম। জানতামই না যে তিনি বিবাহিত। পরে জানতে পেরেছিলাম।' এই স্বীকারোক্তিতে তিনি আরও জানান, তখন তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল অভিনয় শেখা, সিনেমায় কাজ করা এবং হিন্দি ভাষা শেখার দিকে।
পরিবারের কঠোরতা ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা
নীলম জানান, অল্প বয়সের কারণে শুটিংয়ে পরিবারের একজন সদস্য সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন। সেটে সহকর্মীরাও তাঁকে ছোট বোনের মতো আগলে রাখতেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি খুবই ছোট ছিলাম, আর আমার বাবা-মা ছিলেন খুব কঠোর। তাই সম্পর্ক আমার জন্য কখনোই কোনো বিকল্প ছিল না।'
গোবিন্দের পুরোনো স্বীকারোক্তি
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে 'স্টারডাস্ট'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ স্বীকার করেছিলেন, নীলমের প্রতি তাঁর দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে নীলমের প্রতি তাঁর আকর্ষণ বেড়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি নিজের গোপন বিয়ের কথাও স্বীকার করেছিলেন, যা ১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ সুনীতা আহুজার সঙ্গে হয়েছিল।
বৈবাহিক পরিচয় গোপন রাখার ভুল
গোবিন্দ নিজেই স্বীকার করেছিলেন, নীলমের সঙ্গে কাজ করার সময় নিজের বৈবাহিক পরিচয় গোপন রাখা তাঁর ভুল ছিল। একসময় সুনীতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও দ্বিধায় পড়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু নীলমের দিক থেকে সেই গল্পের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।
বলিউডের পর্দার জুটি থেকে আলাদা জীবন
গোবিন্দ-নীলম জুটি আশির দশকের বলিউডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। পরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নীলম, গয়নার নকশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। এখন তিনি অভিনেতা সমীর সোনির স্ত্রী। অন্যদিকে গোবিন্দ 'হিরো নম্বর ওয়ান' থেকে 'পার্টনার' পর্যন্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রেখেছেন।
সত্যের জয়: বাংলাদেশের চেতনার প্রতিফলন
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, তেমনি ব্যক্তিজীবনের এই গল্পটিও সত্যের জয়ের উদাহরণ। ১৯৭১-এর পর থেকে আমরা শিখেছি, মিথ্যা ও গুজবের ওপর কোনো ভিত্তি টেকসই হয় না। নীলমের এই স্পষ্ট বক্তব্য সেই শিক্ষাকেই মনে করিয়ে দেয়।