বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। টাইমস অফ বাংলাদেশের খবর অনুযায়ী, এটি একটি 'দেশ ছাড়ার সমঝোতার' অংশ। বিএনপির সঙ্গে এই সমঝোতার আওতায় তিনি দেশত্যাগের সুযোগ পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পথে এটি কি এক নতুন বিপদ, নাকি সুযোগ? প্রশ্ন উঠছে দেশের সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সঙ্গে একটি গোপন চুক্তির ভিত্তিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। চুক্তি অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তিনি বিনা বাধায় দেশ ছাড়তে পারবেন। তবে বিএনপি শুধু সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তার আগের মামলা বা বিতর্কের দায় নিতে রাজি নয় দলটি।
বিএনপির নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশ ত্যাগ করাই নিরাপদ। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে সুস্থ হলে ১০-১২ দিনের মধ্যে বিদেশে যাবেন। অন্যদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও এই সমঝোতা আগে থেকেই জানতেন বলে খবর।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের ব্যাংকগুলোতে মাল্টিমিলিয়নেয়ার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বণিক বার্তার খবর অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোটি টাকার বেশি আমানত জমা থাকা অ্যাকাউন্ট ছিল ৩৩ হাজারের ঘরে। মাত্র দেড় বছর পর তা সাড়ে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ২১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এটি কি স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী? প্রশ্ন থেকেই যায়।
গ্যাস সংকটও দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। সমকাল পত্রিকার খবর অনুযায়ী, এলএনজি টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ শর্ট সার্কিটে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক, শিল্প, যানবাহন ও বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রান্নায় কাঠ ও এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ১০-১৫ দিন লাগতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে অফিস করবেন বলে জানা গেছে। কালের কণ্ঠের খবর অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা নির্ধারিত হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নির্বাচন কমিশন আজ তফসিল ঘোষণা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে চীনা কোম্পানির নজর পড়েছে। যুগান্তরের খবর অনুযায়ী, দেশের দুটি টার্মিনালের একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট চলছে। তৃতীয় টার্মিনাল বসাতে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই) প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। সামিট গ্রুপও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও বিএনপি। সেপ্টেম্বরে সংসদের অধিবেশনেই নির্বাচন হবে। তার আগে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।
নয়া দিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন তীব্রতর হবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'গণভোটকে আমরা অপমান করতে দেবো না।' তিনি সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বলেন, 'যারা সরকারে আছেন, তারা মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছেন।'
স্বাস্থ্য খাতেও সংকট প্রকট। নিউ এইজের খবর অনুযায়ী, হাসপাতালগুলো প্রাণঘাতী সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের অর্ধেকের বেশি হাসপাতালে থাকাকালীন ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুতে আক্রান্ত হন। দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ চাপ সামলাচ্ছে। জেলা হাসপাতালে বেড অকুপেন্সি রেট ১৭৮ শতাংশ।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাও সংকটে। আজকের পত্রিকার খবর অনুযায়ী, অচল ৩২০ বাস রুট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিটিসিএর জরিপে দেখা গেছে, অনুমোদিত ৪১৮টি রুটের মধ্যে সচল মাত্র ৯৮টি। ফিটনেসবিহীন এক হাজারের বেশি বাসও অপসারণ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পথে এই সংকটগুলো কি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে? নাকি এগুলোই পথ দেখাবে নতুন বাংলাদেশের? প্রশ্নগুলো থেকে যায়।