শিখা অনির্বাণ নিভল, তিস্তায় সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার
মুক্তিযুদ্ধের অদম্য সাহসের প্রতীক শিখা অনির্বাণ নিভে যাওয়ায় জাতির বিবেকে গভীর আঘাত লেগেছে। একদিকে ১৯৭১ সালের শহীদদের স্মৃতিকে অবমাননার মুখে ফেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে এই সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দেশের পানি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়। এছাড়া কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করে সাধারণ মানুষের স্বস্তির বার্তা দিয়েছে নতুন বাজেট, যেখানে নিচু আয়ের মানুষের বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের শিখা নিভিয়ে কার সাশ্রয়?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ শিখা অনির্বাণ। এই শিখা জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে সরকার মিতব্যয়িতা কর্মসূচি নিয়েছে। গত দোসরা মে থেকে এই প্রতীকী শিখাটি আর জ্বালানো হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশপ্রেমিক নাগরিকরা। মুক্তির চেতনাকে বিদেশি জ্বালানি সংকটের হাতিয়ারে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিস্তায় সার্বভৌমত্ব: যেকোনো মূল্যে মহাপরিকল্পনা
দেশের পানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকা ও কৃষিকে সহায়তা দিতে এটি জাতীয় অগ্রাধিকার। পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে সংসদ সদস্যরা যে সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, তা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ব্যবস্থাপনার এই চরম সংকট আমাদের স্বাধীন পানিপ্রবাহের দাবিকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।
বাজেটে স্বস্তি ও কালোটাকার অবসান
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে পরিচিত 'স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন' বিধানটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এছাড়া, পহেলা জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় বাড়তি বেতন পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
উত্তরের বন্যা ও বিদ্যুতের চরম সংকট
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। পাঁচ উপজেলায় ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এই দুর্যোগের মাঝেই গ্রামাঞ্চলে চরম লোডশেডিং জনজীবনকে দুর্বিষহ করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে রাত আটটায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট, যার ৯৬ শতাংশই ছিল পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে। ক্ষুব্ধ মানুষ বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি বিদ্যুৎ চেয়ে সংসদ সদস্য ও আরইবি চিঠি দিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশে এএসআই পদে নিয়োগে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। শরীয়তপুরে ১৬টি পদের বিপরীতে ১৫৯ জন পরীক্ষা দিয়েছেন, যার বড় অংশই বর্তমান কনস্টেবল।
ভূরাজনীতির ধোঁয়াশা ও স্বাধীন পরিচয়
বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা বিরাজ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও ইরান দোহায় কারিগরি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। বৈশ্বিক এই শক্তির লড়াইয়ের মাঝে বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ধরে রাখতে হবে। দেশের অর্থনীতিতেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ Exit সুবিধা দিচ্ছে, যেখানে মূল অর্থ পরিশোধ করে দায় নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে তৎপরতা বেড়েছে, যদিও কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
শিখা অনির্বাণ কেন বন্ধ রাখা হয়েছে?
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য গত দোসরা মে থেকে শিখা অনির্বাণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
নবম পে-স্কেলে বেতন কত বাড়বে?
নবম পে-স্কেলে নিচের দিকের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়তে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন জাতীয় অগ্রাধিকার?
উত্তরাঞ্চলের মানুষের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং জীবনজীবিকার উন্নয়নের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ণ অপরিহার্য বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন।