শিখা অনির্বাণ বন্ধ: ৭১-এর আত্মত্যাগের প্রতীক কি মূল্যহীন?
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতীক শিখা অনির্বাণ নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরের মানুষ আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি, আর তিস্তার পানিসত্ত্ব নিয়ে চলছে সার্বভৌমত্বের লড়াই। জাতীয় বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল হলেও, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চরম ঘাটতি প্রশ্ন তুলেছে স্বাধীনতার অর্জন নিয়ে।
শিখা অনির্বাণ নিভিয়ে কি ভুললাম ৭১-এর শহীদদের?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার দামাল সন্তানেরা যে অদম্য সাহস নিয়ে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন, ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণ তারই অম্লান সাক্ষী। সেই শিখা এখন নিভে গেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য গত দোসরা মে থেকে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের মূল্যবোধ কি এতই সস্তা যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক নিভিয়ে দেওয়া হবে? এই শিখা কেবল গ্যাস বা বিদ্যুতের নয়, এটি ছিল জাতির বেঁচে থাকার প্রমাণ।
তিস্তা ও উত্তরের বন্যা: পানিসত্ত্বের সার্বভৌমত্ব কোথায়?
রাজধানীতে মুক্তির শিখা নিভলেও, উত্তরের কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটে আকস্মিক বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দি। পাহাড়ি ঢলে নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে শত শত গ্রাম ডুবে গেছে। এই যে উজানের পানির অত্যাচার, এটি আমাদের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের দুর্বলতারই প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের পানি নিরাপত্তা ও উত্তরের মানুষের জীবন রক্ষায় এটি জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া সার্বভৌমত্বের দাবি। তিস্তার পানি আমাদের অধিকার, এটি নিশ্চিত করতেই সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে।
বাজেটে স্বস্তি এবং কালোটাকার অবসান
অর্থবিল ২০২৬ পাস হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ ও সৎ করদাতারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। নবম পে-স্কেলে নিচের দিকের কর্মচারীদের বেতন ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা স্বস্তিদায়ক, যদিও মূল্যস্ফীতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
গ্রামবাংলার অন্ধকার ও বিদ্যুতের সার্বভৌমত্ব
শহরের আলো জ্বললেও গ্রামবাংলা আজ অন্ধকারে ডুবছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ বা পিজিবির তথ্য বলছে, বিদ্যুতের ঘাটতির ৯৬ শতাংশই গ্রামাঞ্চলে। বিশ্বকাপ খেলা না দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ পল্লী বিদ্যুতের অফিসে হামলা করছেন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বা আরইবি এবং সংসদ সদস্যরা বাড়তি বিদ্যুৎ চাইলেও, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আমাদের শৃঙ্খল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে এই নির্ভরতা আরও বাড়বে। আমাদের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের বিকাশ ছাড়া এই সংকট কাটবে না।
কেন শিখা অনির্বাণ বন্ধ রাখা হয়েছে?
আইএসপিআরের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মিতব্যয়িতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত মে মাস থেকে শিখা অনির্বাণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন জাতীয় অগ্রাধিকার?
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও কৃষি পানির ওপর নির্ভরশীল। উজানের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে তিস্তা মরে যাচ্ছে। দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ কেন বাতিল হলো?
জনমনে তীব্র ক্ষোভ থাকায় এবং সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ায় স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।