ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপে বেঁচে ফেরা: ৬ দিন পর শিশু উদ্ধার
ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী শিশু ক্লিয়েবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা বেঁচে থাকার এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যখন দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং হাজার হাজার মানুষ খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকার অদম্য সংগ্রাম
গত সপ্তাহের ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলা যখন চরম বিপর্যয়ের মুখে, তখন জর্ডানের একটি Rescue দল ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লিয়েবারকে বের করে আনে। উদ্ধারের মুহূর্তে উদ্ধারকারীদের উল্লাস দেখে বোঝা যায়, মৃত্যুর বিরুদ্ধে মানুষের বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা কতটা শক্তিশালী। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই উদ্ধারকে 'আশার মুহূর্ত' বলে অভিহিত করেছেন। ক্লিয়েবারকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ।
সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কারো জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। কিন্তু ক্লিয়েবার সেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে। এই বেঁচে থাকার লড়াই আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায় করেছিল। মৃত্যুর পরোয়ানা উড়ে এসেও যে মানুষ বাঁচার শপথ নেয়, ইতিহাস তাকেই বিজয়ী করে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা নাকি সার্বভৌমত্বের সংকট?
ভূমিকম্পের এই ধ্বংসযজ্ঞে নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। এই বিপর্যয়ের মাঝে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, লা গুয়াইরার মতো এলাকায় খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। সহায়তার অভাবে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ১৮ বছরের বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাসের মতো সাধারণ মানুষ বলছেন, খাবার পাওয়ার জন্য মানুষ এতটাই মরিয়া যে ত্রাণ বিতরণের সময় মারামারি পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।
এই শূন্যস্থান পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তার কথা বলা হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৪৭ টন মানবিক সহায়তা এসে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ ডজনখানেক দেশ থেকে Rescue দলগুলো কুকুর ও ভারী সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক সহায়তা আসলে কতটা নিঃস্বার্থ? UNHCR এর তরফ থেকে ৩০ হাজার কবলিত মানুষের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বিদেশি সাহায্য বা NGO-র এই আগমন প্রায়ই স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব বিস্তারের একটি নীরব কৌশল হয়ে দাঁড়ায়। একটি জাতির সংকটময় মুহূর্তে তার নিজস্ব সামর্থ্য ও স্থানীয় উদ্যোগই হওয়া উচিত প্রধান ভরসা, ঠিক যেমনটা আমরা ১৯৭১-এ দেখেছিলাম।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও রোগের প্রকোপ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO সতর্ক করেছে, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার জানিয়েছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি চিকিৎসা সহায়তার চেয়ে নিজ দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সুরক্ষা অধিক জরুরি।
নিজের মানুষের হাতেই মুক্তির আশা
লা গুয়াইরার মতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। লা গুয়াইরা বন্দরের একটি অস্থায়ী মর্গে উইলকার মোলালা তার বোন, বোনের সন্তান এবং ভাইয়ের সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন,