নারীর শ্রমের মর্যাদা: দীপিকার ৮ ঘণ্টার শিফট দাবিতে কাজল
নারীর শ্রমের মর্যাদা ও নিজের সময়ের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দাবিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন প্রতিবেশী দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের শীর্ষ অভিনেত্রীরা। দীপিকা পাড়ুকোনের ৮ ঘণ্টার শিফটের দাবিকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তাতে এবার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন কাজল আগরওয়াল। কঙ্গনা রানাউতও এই দাবির পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম কেবল চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি যেকোনো শোষণের বিরুদ্ধে আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইয়েরই অংশ। ১৯৭১ সালে আমরা যেমন শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রাম করেছিলাম, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও নারীর সেই মুক্তির অধিকার অবশ্যই সমর্থনযোগ্য।
কাজল আগরওয়াল কেন চুক্তিতে কড়া শর্ত আরোপ করলেন?
মা হওয়ার পর নিজের সন্তানের প্রতি দায়িত্ব এবং পেশাগত কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন কাজল। Zoom-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মা হওয়ার পর তাঁর কাজের সময় নিয়ে চুক্তিতে কড়া শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কাজল স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
এখন আমার চুক্তিতে স্পষ্ট করে লেখা থাকে, আমি কত ঘণ্টা কাজ করব। রবিবার আমি কাজ করি না, কারণ সেই সময়টা আমি আমার সন্তানের সঙ্গে কাটাতে চাই। আগের মতো সারাক্ষণ কাজ করা এখন আর সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, সবটাই অগ্রাধিকারের বিষয়। কর্পোরেট দুনিয়ায় যেমন নির্দিষ্ট কাজের সময় থাকে, তেমনই চলচ্চিত্র শিল্পেও তা হওয়া উচিত। শ্রমিকের নিজের শ্রমের ওপর এই অধিকার কোনও অযৌক্তিক দাবি নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।
পুরুষ তারকাদের সুবিধা বনাম নারীদের দ্বিগুণ চাপ
দীপিকা পাড়ুকোনের এই দাবির সমর্থনে কঙ্গনা রানাউত যে দ্বিচারিতার কথা বলেছেন, তা চিন্তার জন্ম দেয়। ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, আজ নারীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ কাজের প্রত্যাশা করা হয় অফিসেও, বাড়িতেও। এর প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা, এমনকি বিবাহিত জীবন ও সন্তানধারণের ক্ষেত্রেও। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের বহু জনপ্রিয় পুরুষ তারকা বহু বছর ধরেই দিনে মাত্র আট ঘণ্টা কাজ করেন, কিন্তু তা কখনও খবরের শিরোনাম হয়নি। অথচ একজন নারী যখন তাঁর নিজের সময়ের ওপর অধিকার দাবি করেন, তখনই তা বিতর্কের জন্ম দেয়। এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করে, শোষণের স্বরূপ সবখানেই এক।
দীপিকার সার্বভৌমত্বের দাবি ও শিল্পের দ্বিচারিতা
দীপিকা পাড়ুকোন সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত 'Spirit' এবং নাগ অশ্বিন পরিচালিত 'Kalki 2898 AD'-এর সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মেয়ে দুয়া জন্মানোর পর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে তিনি দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা কাজ করতে চান। CNBC-TV18-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেন,
আমি একজন নারী বলে যদি আমার এই দাবি কাউকে 'অতিরিক্ত' বা 'কঠিন' মনে হয়, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। অনেক পুরুষ অভিনেতা সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দিনে আট ঘণ্টা কাজ করেন এবং সপ্তাহান্তে কাজই করেন না। কিন্তু একজন নারী একই দাবি তুললেই তা নিয়ে এত বিতর্ক তৈরি হয়।নিজের শ্রমের ওপর নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রসঙ্গত, আগামী দিনে শাহরুখ খানের সঙ্গে 'King' ছবিতে এবং অ্যাটলি পরিচালিত আল্লু অর্জুন অভিনীত নতুন ছবিতে দেখা যাবে দীপিকাকে।
দীপিকা পাড়ুকোনের ৮ ঘণ্টার শিফট বিতর্ক কী?
মা হওয়ার পর কাজের সময় নির্ধারণ করতে দীপিকা পাড়ুকোন দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা কাজের শর্ত জুড়েছিলেন। এই শর্ত মানতে না পারায় তিনি 'Spirit' ও 'Kalki 2898 AD' সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়ান, যা শিল্পের পুরুষতান্ত্রিক দ্বিচারিতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রতিবেশী দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের অধিকারের অবস্থা কী?
প্রতিবেশী দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে পুরুষ তারকারা বহু বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করার সুবিধা পেলেও, নারী তারকাদের একই অধিকার দাবি করলে তা চরম বিতর্কের কারণ হয়। নারীদের ওপর পেশাগত ও পারিবারিক দ্বিগুণ চাপ প্রশ্নাতীত থাকে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।