যাদবপুরে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি: 'হিসাবের শেষ পর্যায়, হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা'
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শুক্রবার 'দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম' অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এ বার হয় 'বেয়াদপেরা' থাকবেন, নয় 'রাষ্ট্রবাদীরা'। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুরে কমিউনিস্ট ও তৃণমূলের মদতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ চলেছে, যা এখন আর সহ্য করা হবে না।
কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক আন্দোলনে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়, 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' বলে এবং অপারেশন সিঁদুরের সময় 'যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই' স্লোগান তোলে। তিনি বলেন, বাম সরকার ৩৪ বছর এবং তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে এই শক্তিকে মদত দিয়েছে, কিন্তু এখন সেই 'সমঝোতার' যুগ শেষ।
কেন যাদবপুরে এই অনুষ্ঠান?
রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র্যাম্প তৈরি করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে 'বন্দে মাতরম' গানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।
কমিউনিস্ট ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরে বিদেশি প্রভাব যুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাঁদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি পাওয়া যাবে না। তাঁর অভিযোগ, ওই শক্তি পড়ুয়াদের ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ধর্ম এবং বাঙালির পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে। তৃণমূলের আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন, রাজ্যপালকে অপমান করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিট আন্দোলনে কী হয়েছিল?
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নিট আন্দোলনের সময় যাদবপুরের হোস্টেল থেকে পড়ুয়াদের জোর করে মিছিলে নামানো হয়েছিল। না যেতে চাইলে রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের পরিণতির কথা বলে ভয় দেখানো হতো। তিনি বলেন, সেই মিছিলে নিট বা চাকরির স্লোগান ছিল না, ছিল শুধু 'আজাদি'র স্লোগান।
'আজাদি'র অর্থ কী?
শুভেন্দু পড়ুয়াদের প্রশ্ন করেন, ''কিসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি?'' তিনি বলেন, সিআরপিএফ জওয়ানরা জঙ্গিদের হাতে নিহত হলে বা পহেলগাঁওয়ে হিন্দুদের খুন করা হলে তাঁদের মিছিল হয় না, কিন্তু অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বের করে।
হুঁশিয়ারির সুরে কী বললেন?
শুভেন্দু বলেন, ''হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা।'' তিনি জানান, নন্দীগ্রাম থেকে কমিউনিস্ট এবং জঙ্গলমহল থেকে মাওবাদীদের 'সাফাই' যেভাবে হয়েছে, যাদবপুরেও তেমনই অভিযান চলবে। তিনি বলেন, ''আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব।''
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই খবরের তাৎপর্য
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার আমাদের কাছে পবিত্র। পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কীভাবে একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার লড়াই প্রতিনিয়ত চলে। বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয়তাবাদী শক্তি বনাম রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির এই দ্বন্দ্ব চলছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতা, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যাঁরা শ্রদ্ধাশীল, তাঁদের কাছে এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তৃতা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেদিকে নজর থাকবে।