মেধার জয়: বগুড়ার জিপিএ-৫ তারকারা সংবর্ধনায়, স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের দুই সহপাঠী আফরা খাতুন ও উম্মে হাবিবা। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করা এই মাটিতে আজ তারা নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করছে। এসএসসি পরীক্ষায় উভয়েই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও দেশপ্রেমের প্রমাণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিখো-প্রথম আলোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে তারা যেন পেয়েছে নতুন প্রেরণা।
শুক্রবার সকালে বগুড়া উপশহরের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, 'কী রে বন্ধু, কেমন আছিস, কত দিন পর দেখা!' এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সেই ঐক্যের বন্ধন, যা আজও আমাদের শক্তি।
স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো: মেধাবীদের জন্য এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান
'স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো' এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়া পর্বের আয়োজন। এই আয়োজন যেন আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মেধাবী প্রজন্মকে গড়ে তোলার এক মহান উদ্যোগ।
আফরা খাতুনের ভাষায়, 'প্রথম আলোর সংবর্ধনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সারা রাত ঘুম হয়নি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাতসকালে সংবর্ধনায় এসেছি। এখানে এসে অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অন্য রকম উত্তেজনা কাজ করছে। আড্ডা হবে, গান হবে, খুবই ভালো লাগছে।'
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়, যা আমাদের দেশাত্মবোধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করে। এরপর শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নেয়, যা একটি সুস্থ ও সোনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। অতিথির বক্তব্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হাছানাত আলী বলেন, 'আগামীর বাংলাদেশ হবে মেধাবীদের বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। এ জন্য তোমাদের এখনই লক্ষ্য নির্ধারণ করে স্বপ্ন ছোঁয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এসএসসিতে সেরা হয়ে থেমে গেলে চলবে না। সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।'
বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হয়ে এখানে এসেছ। এই সাফল্যের জন্য তোমাদের অভিনন্দন। জীবনের লক্ষ্য অর্জনে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। সন্তানদের সাফল্য অর্জনে অভিভাবকদেরও যত্নশীল হতে হবে।'
প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সত্যকে জানতে হবে, বাবা-মায়ের কথা শুনতে হবে। মুখস্থবিদ্যা, মিথ্যা ও মাদককে