স্বাধীনতার মতো স্বাস্থ্যও আমাদের অধিকার: সিজন চেঞ্জে কাশির ঘরোয়া চিকিৎসা
১৯৭১ সালে যেমন আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম, তেমনি আজও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। বিদেশি ওষুধ কোম্পানিদের দাপটে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান আজও আমাদের রক্ষা করতে পারে।
কেন বাড়ে সিজন চেঞ্জে কাশি?
আবহাওয়া বদলালেই অনেকের প্রথম সমস্যা শুরু হয় কাশি দিয়ে। হঠাৎ ঠান্ডা গরমের তারতম্য, ধুলোবালি, বাতাসে আর্দ্রতার পরিবর্তন বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে সিজন চেঞ্জে ঘন ঘন কাশির সমস্যা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কেউ শুকনো কাশিতে ভোগেন, আবার কারও কাশির সঙ্গে কফ জমে যায়।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শ্বাসনালির ভেতরের আবরণ সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ঠান্ডা বা শুষ্ক বাতাসে গলা শুকিয়ে যায় এবং সামান্য জ্বালাতেই কাশির রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়ে পড়ে।
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া সমাধান
পানি পান: আমাদের দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে উষ্ণ জল পান করলে গলা শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং কাশির তীব্রতা অনেকটাই হ্রাস পায়। ঠান্ডা জল বা বরফজাত পানীয় এড়িয়ে চললে গলার জ্বালা কম হয়।
মধুর গুণ: মধু কাশির ক্ষেত্রে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান। আমাদের পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে এই উপাদান ব্যবহার করে এসেছেন। নিয়মিত অল্প পরিমাণে মধু খেলে গলার ভেতরের জ্বালা প্রশমিত হয় এবং শুকনো কাশি কমতে সাহায্য করে।
আদার শক্তি: সিজন চেঞ্জে আদা একটি অত্যন্ত কাজের জিনিস। আদার উষ্ণ গুণ শ্বাসনালিকে আরাম দেয় এবং কফ জমে থাকলে তা পাতলা করে বের হতে সাহায্য করে। বাঙালির রান্নাঘরে আদা একটি অপরিহার্য উপাদান।
পরিবেশ রক্ষা করুন, স্বাস্থ্য রক্ষা করুন
গরম ভাপ নেওয়াও কাশি ও গলার সমস্যায় উপকারী। ভাপ শ্বাসনালির ভেতরের শুষ্কতা কমায় এবং জমে থাকা কফ নরম করে। বিশেষ করে রাতে কাশি বেশি হলে ভাপ নেওয়ার পর আরাম অনুভব করা যায়।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও এই সময়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম বা খুব মশলাদার খাবার গলার সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর বদলে হালকা গরম খাবার, স্যুপ ও তরল জাতীয় খাবার শ্বাসনালির জন্য আরামদায়ক।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
তবে মনে রাখতে হবে, সব কাশি একরকম নয়। যদি কাশি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, কাশির সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা রক্ত আসার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমাদের স্বাস্থ্য আমাদের হাতে। বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।