বঙ্গ বিজেপিতে শৃঙ্খলার ঝড়: কাটমানি-তোলাবাজির বিরুদ্ধে শমীক-দিলীপের কড়া বার্তা, ৩০-র বেশি নেতা বহিষ্কার
বাংলার রাজনীতিতে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিল বঙ্গ বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মে মাসে সরকার গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত দলের ৩০ জনেরও বেশি কর্মী ও নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৫০ জনকে শো'কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, 'কাটমানি সংস্কৃতি' ও দলবিরোধী কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
দলের রাজ্য শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, তোলাবাজি, দুর্নীতি বা দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আগামী দিনেও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আরও কঠোর করা এবং কর্মীদের দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত রাখা।
শমীক ভট্টাচার্যের সতর্কবার্তা
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি দলীয় কর্মীদের ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, তোলাবাজি বা এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কেউ যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রথম দিন থেকেই এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করছেন বলে দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
অভিযোগ পেলেই তদন্ত, শোকজের পর সিদ্ধান্ত
রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের নিজস্ব নিয়ম মেনেই অভিযোগের তদন্ত করা হয়। তাঁর বক্তব্য, গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বেশ কয়েকজন কর্মীকে সাসপেন্ড ও বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় কয়েকজনকে পরবর্তীতে দলে ফিরিয়েও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দলের প্রত্যেক কর্মীর উপর নজর রাখা হচ্ছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি কিংবা দলবিরোধী কাজের অভিযোগ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
নজরে জেলা, মণ্ডল ও বুথ স্তরের কর্মীরা
দলীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার বড় অংশই নেওয়া হয়েছে জেলা, মণ্ডল এবং বুথ স্তরের কর্মী ও নেতাদের বিরুদ্ধে। তবে এবার নিচুতলার সংগঠনের উপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য জানিয়েছেন, কোনও বিধায়ক, সাংসদ বা সাংগঠনিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে টাকা তোলার নির্দিষ্ট অভিযোগ আপাতত নেই। তবে নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে।
সংগঠনে নজর বাড়াচ্ছে RSS
নিচুতলায় তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত অভিযোগ বাড়তে থাকায় সংগঠনের উপর নজরদারি বাড়াতে এবার সক্রিয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-ও। সূত্রের খবর, আগামী দিনে বিভিন্ন জেলায় আরও বেশি সমন্বয় বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই বৈঠকগুলিতে বিজেপির সাংসদ, বিধায়কদের পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মতো সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও রাখা হতে পারে।
মূল লক্ষ্য, দলের নিচুতলায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা এবং দলীয় আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে কর্মীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। ফলে আগামী দিনে অভিযোগের ভিত্তিতে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে আরও কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
FAQ
বঙ্গ বিজেপি কেন এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে?
দলের নিচুতলায় তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কতজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে?
মে মাসে সরকার গঠনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি কর্মী ও নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জনকে শো'কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
RSS কেন এই বিষয়ে সক্রিয় হচ্ছে?
নিচুতলায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির অভিযোগ বাড়ায় RSS সংগঠনের উপর নজরদারি বাড়াতে এবং দলীয় আদর্শের সঙ্গে কর্মীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে সক্রিয় হচ্ছে।