পশ্চিম সীমান্তে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ জড়ো হচ্ছে। পাকিস্তানের গোলন্দাজ বাহিনী ২৫০টির বেশি চিনা এসএইচ-১৫ কামান ভারতের দিকে তাক করে বসেছে। 'অপারেশন সিঁদুর'-এ পরাজিত রাওয়ালপিন্ডি এখন নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে আছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে এই উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থেকে মনোযোগ সরাতে ভারতের সঙ্গে সংঘাত উসকে দিতে চাইছে।
চিনা কামানের শক্তি কতটুকু?
এসএইচ-১৫ কামানটি চিনের নরিনকো কোম্পানি তৈরি করেছে। এটি ১৫৫ মিলিমিটার/৫২ ক্যালিবারের নেটো অনুমোদিত গোলা দাগতে পারে। পাল্লা ৩০-৪০ কিলোমিটার। মিনিটে ছ'রাউন্ড গোলাবর্ষণ করতে পারে এই কামান।
এই কামানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল 'ভি-ল্যাপ' প্রযুক্তি। এটি গতিবেগ বাড়ানো দূরপাল্লার রকেট সহায়ক গোলা দাগতে পারে। পাল্লা ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত। স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক স্থিতিশীল গতি থাকায় রণাঙ্গনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে পাক ফৌজ।
ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি কী?
ভারতের গোলন্দাজ বাহিনীর হাতে আছে কে-৯ বজ্র সেলফ প্রপেল্ড কামান। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো তৈরি করেছে। প্রতি ৩০ সেকেন্ড অন্তর একটি করে গোলা ছুড়তে পারে এই কামান। রাজস্থানের মরুভূমি থেকে লাদাখের পাহাড়ি এলাকা, সব পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম।
এছাড়া ভারত ব্যবহার করে ধনুশ, এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউৎজার এবং অ্যাডভান্স টোড আর্টিলারি গান সিস্টেম (এটিজিএএস)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউৎজার হালকা হওয়ায় চিনুক হেলিকপ্টারের সাহায্যে দ্রুত স্থানান্তর করা যায়।
পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চারও ভারতের শক্তিশালী হাতিয়ার। কার্গিল যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী একাধিক সংঘাতে নিজের জাত চিনিয়েছে ডিআরডিও-র তৈরি এই অস্ত্র। মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে ১২টি রকেট দাগা যায়।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
পাকিস্তানের তিনটি প্রদেশেই মারাত্মক গণবিক্ষোভ চলছে। বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রায় হাতছাড়া হওয়ার শামিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও (পিওকে) বিদ্রোহ চরম আকার নিয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামাবাদের ফৌজের উপর।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে নেমে জাতীয়তাবাদী হাওয়া উস্কে দিতে চাইছে রাওয়ালপিন্ডি। পর্দার আড়ালে থেকে পাকিস্তানকে মদত দিচ্ছে চিন। গত এক দশকে ইসলামাবাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারি আরও মজবুত করেছে বেজিং।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কী?
এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। ১৯৭১ সালে ভারতের সহায়তায় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু আজকের বিশ্বে আত্মনির্ভরশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত যেমন 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, বাংলাদেশকেও নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের উচিত নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। পাশাপাশি, বিদেশি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা। কারণ যুদ্ধ লম্বা হলে গোলা-বারুদের সরবরাহ ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। চিনা নির্ভরতা পাকিস্তানের জন্য যেমন সমস্যা তৈরি করতে পারে, বাংলাদেশের জন্যও তেমনই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের শেখায়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। পাকিস্তানের এই নতুন হুমকি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। এর রক্ষার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, প্রস্তুতি ও আত্মনির্ভরশীলতা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাকিস্তানের সীমান্তে কামান মোতায়েনের কারণ কী?
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থেকে মনোযোগ সরাতে ভারতের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে রাওয়ালপিন্ডি। বালোচিস্তান, খাইবার-পাখতুনখোয়া ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহ চরম আকার নিয়েছে।
ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি কী?
ভারতের গোলন্দাজ বাহিনীর হাতে আছে কে-৯ বজ্র, ধনুশ, এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউৎজার এবং পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার। এছাড়া 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি।
চিনা কামানের দুর্বলতা কী?
এসএইচ-১৫ কামানের দেহে পুরু বর্ম নেই। ফিদায়েঁ ড্রোনের হামলায় অনায়াসেই ওড়ানো যাবে এই হাউৎজার। এছাড়া যুদ্ধ লম্বা হলে চিনা সরবরাহ ঠিক না থাকলে পাকিস্তানের সমস্যা হতে পারে।