পশ্চিমবঙ্গে NCPI সাংসদদের নবান্ন সফর: স্বাধীনতার ৭৫ বছরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে 'প্রাতরাশ বৈঠকে' যোগ দেওয়ার একদিন পরেই পশ্চিমবঙ্গের দুই NCPI সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন। শনিবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে গিয়ে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ধারণকারী বাঙালির রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
NCPI সাংসদদের নবান্ন সফরের পেছনে কী কারণ?
জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান নবান্নে পৌঁছন। বৈঠকে তাঁদের নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তাঁরা তুলে ধরেছেন বলে NCPI সূত্রে খবর। তবে এই বৈঠকের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন বেশি চর্চা শুরু হয়েছে।
মুসলিম সাংসদদের অসন্তোষ ও NDA বৈঠকে অনুপস্থিতি
মুর্শিদাবাদের দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছে। তিন মুসলিম সাংসদ-সহ NCPI-র একাধিক সাংসদ পরপর দু'টি NDA বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি তাঁরা তৃণমূলে ফেরার কথা ভাবছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়। আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান এর আগে দলের অন্দরে নিজেদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছিলেন। BJP-র মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়ে তাঁদের অস্বস্তি রয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই পরপর NDA বৈঠকে তাঁরা যোগ দেননি বলে দাবি।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক: তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ
এর মধ্যেই শুক্রবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি দল। নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করা এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা হয় বলে জানা যায়। তার পরদিনই NCPI-র দুই সাংসদের নবান্নে যাওয়া রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক: সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের দাবি
এর আগে শুক্রবার দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে NDA-র প্রায় ৪০ জন সাংসদকে নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংসদকে গণতন্ত্রের মন্দির হিসেবে সম্মান করার জন্য সাংসদদের বার্তা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক নিয়েও NCPI সাংসদদের বক্তব্য সামনে এসেছে। আবু তাহের খান জানান, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তাঁরা রাজ্য ও দেশে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘুদের বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও নির্যাতিত হওয়ার বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা?
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরদিনই NCPI-র দুই সাংসদের শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানের নবান্ন সফরকে আপাতত উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও বাঙালির রাজনীতি যেন নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।