রেজিনগরে হুমায়ুনের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের স্বপ্ন: ৫০ হাজার ভোটে জয়ের দাবি
বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের ইতিহাস নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থে দল পরিবর্তন করে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্রে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
রেজিনগরে হুমায়ুনের রাজনৈতিক যাত্রা
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কাহিনী বেশ আকর্ষণীয়। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে তিনি ৪৯.৭৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। আরএসপি প্রার্থী সিরাজুল্ ইসলাম মন্ডল পেয়েছিলেন ৪৪.১২ শতাংশ ভোট। সেই সময় বিজেপি প্রার্থী মাত্র ৪.৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে হুমায়ুন কবীরও দল পরিবর্তন করেন। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রী পদও পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে তিনি মাত্র ২৩.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান।
নির্দল প্রার্থী হিসেবে সংগ্রাম
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন এবং ৪০.১২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ৪৩.১২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই নির্বাচনে তৃণমূল তৃতীয় স্থানে থেকে যায়।
২০২১ সালে হুমায়ুন কবীর পুনরায় তৃণমূলে ফিরে গিয়ে ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। কিন্তু তার পুরনো কেন্দ্র রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ৫৬.৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
২০২৬ নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ
এখন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করা হুমায়ুন কবীর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও বেলডাঙ্গা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরের মাটি হুমায়ুন কবীর ভালোভাবেই চেনেন। হার-জিতের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিশেষ করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে তার লড়াইয়ের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য। কিন্তু নতুন দল নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্ন রয়েই গেছে।
বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের এই প্রবণতা জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটাই দেখার বিষয়। ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রমাণ করবে রেজিনগরের মানুষ হুমায়ুন কবীরের এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়কে কিভাবে দেখেন।