আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন: স্বাধীনতার নতুন অধ্যায়
জুলাইয়ের মহান গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এই সংগ্রামে জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে যে, বাংলার মাটিতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি টিকে থাকতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন নির্বাচন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ২০১৪ সাল থেকে একাধারে তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের পর এবারই প্রথম জনগণ পাচ্ছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সুযোগ।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করে বলেছেন, "অংশগ্রহণমূলক বলতে আমরা বুঝি ভোটারদের অংশগ্রহণ। পার্টিকুলার কোনো দলের নয়।" তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনে যোগ্য লোকদেরকে নির্বাচন করতে না দিলেই সেটা হবে অংশগ্রহণহীন ইলেকশন।"
স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে জনগণের রায়
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষায়, "ইনক্লুসিভ ইলেকশন মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন। কারণ আওয়ামী লীগ কোনো পলিটিক্যাল পার্টি না। তারা একটা মাফিয়া গোষ্ঠী, তারা রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে।"
এই মন্তব্য আসলে ১৫ বছরের নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। যে দল বাংলার মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষক
এবারের নির্বাচনে মূলত অংশ নিচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি। বিশেষ করে যারা ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এই দলগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রকৃত রক্ষক।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী যদিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে, তবুও তিনি স্বীকার করেছেন যে এই নির্বাচনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন।
নতুন প্রজন্মের স্বাধীন ভোট
বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, "এদেশের মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম যারা নতুন ভোটার হয়েছে, যাদের বয়স আঠারো থেকে ত্রিশ পঁয়ত্রিশের মধ্যে তারা স্বাধীনভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।"
এই নতুন প্রজন্ম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা স্বাধীনতার শত্রুদের চিনে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে প্রস্তুত।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন
নাগরিক অধিকার কর্মী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি বলেছেন, "জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু যারা তাদের মধ্যে আগের বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখছি যে, তাদের মধ্যে একটা আতঙ্কের অবস্থা তৈরি করা হয়।"
এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্ম ও জাতির মানুষ একসাথে লড়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনের পথে
এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর জনগণ পাচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করবে যে, এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শক্তির একসাথে দাঁড়ানোর এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এক নতুন স্বপ্নের দিকে। যেখানে থাকবে না কোনো স্বৈরাচার, থাকবে না কোনো দুর্নীতি। থাকবে শুধু মুক্ত বাংলা, স্বাধীন বাংলা।