রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের স্বপ্ন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলবদলের গল্প নতুন নয়। কিন্তু হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক যাত্রা একটি বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রকে ঘিরে তার উত্থান-পতনের কাহিনী আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রতিচ্ছবি।
কংগ্রেসের সাফল্য থেকে তৃণমূলের পরাজয়
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউয়ে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে জয়লাভ করেছিলেন। ৪৯.৭৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি আরএসপি প্রার্থী সিরাজুল্ ইসলাম মন্ডলকে (৪৪.১২%) পরাজিত করেন। তখন বিজেপি মাত্র ৪.৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার লোভে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তার ভাগ্য পাল্টে যায়। ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে যান, মাত্র ২৩.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে। এটি ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় ধাক্কা।
নির্দল প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন
২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে তিনি অসাধারণ লড়াই করেন। কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ৪৩.১২ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতলেও হুমায়ুন পেয়েছিলেন ৪০.১২ শতাংশ ভোট। মাত্র তিন শতাংশের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন।
২০২১ সালে আবার দল বদলে তৃণমূল থেকে ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। কিন্তু তার পুরনো কেন্দ্র রেজিনগরে এবার কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী তৃণমূল প্রার্থী হয়ে ৫৬.৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
জনতা উন্নয়ন পার্টির নতুন স্বপ্ন
এখন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে হুমায়ুন কবীর গঠন করেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর ও বেলডাঙ্গা কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন এবং ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের দাবি করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি নতুন দল নিয়ে তিনি কতটা সফল হবেন? তার দলবদলের ইতিহাস জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? রেজিনগরের মাটি তিনি চেনেন ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি থেকেই যায়।
স্বাধীনতার চেতনা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা
১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম, তার মূল চেতনা ছিল জনগণের কল্যাণ ও সৎ রাজনীতি। কিন্তু আজকের দলবদলের রাজনীতি সেই আদর্শ থেকে আমাদের কতটা দূরে নিয়ে গেছে, হুমায়ুন কবীরের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট।
তবে তার নির্দল প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী প্রদর্শন প্রমাণ করে যে, জনগণ এখনও সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা রাখে। রেজিনগরের ভোটাররা ২০২৬ সালে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।