আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন: স্বাধীনতার নতুন অধ্যায়
জুলাইয়ের মহান গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের দিকে। ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়াই চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। এই প্রথমবারের মতো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার চেতনায় নতুন নির্বাচন
২০১৪ সাল থেকে একাধারে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর আবারো প্রশ্ন উঠেছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্ট করে দিয়েছে। স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে জনতার রায় এসেছে।
বিগত নির্বাচনগুলোতে ২০১ৄ ও ২০২৪ সালে বিএনপি ও জামায়াত অংশ না নেয়ায় একতরফা নির্বাচন হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সমালোচকেরা বলেছেন 'রাতের ভোট'। কিন্তু আসন্ন নির্বাচন হবে ভিন্ন প্রকৃতির, যেখানে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো অংশ নিচ্ছে।
জনগণের রায়ে আওয়ামী লীগের বহিষ্কার
ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও বাতিল করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দলটি ভোটে অংশ নিতে না পারলেও বিতর্কের কিছু নেই বলে মনে করে স্বাধীনতাপ্রেমী রাজনৈতিক দলগুলো।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, "অংশগ্রহণমূলক বলতে আমরা বুঝি ভোটারদের অংশগ্রহণ। পার্টিকুলার কোনো দলের নয়। নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয় একটা আইনের ভিত্তিতে।"
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেছেন, "ইনক্লুসিভ ইলেকশন মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন। কারণ আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তারা একটা মাফিয়া গোষ্ঠী, তারা রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ স্পষ্ট করেছে যে তারা এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চায় না। ইনক্লুসিভ মানে যারা এখন রাজনীতিতে রেজিস্টার্ড আছে, নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবন্ধন আছে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।"
স্বাধীনতাপ্রেমী জনগণের প্রত্যাশা
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রধান জোট আসন্ন নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে। আওয়ামী লীগ না থাকায় এই দুই জোটের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দুই জোট মনে করছে, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।
তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সতর্ক করে বলেছেন, "আনকন্ট্রোলড আনচেকড একটা নির্বাচনের দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে। ভোটের দিনে স্থানীয় শক্তি যা চাইবে তাই হবে।"
নতুন প্রজন্মের স্বাধীনতার স্বপ্ন
বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ আশাবাদী, "এদেশের মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম যারা নতুন ভোটার হয়েছে, যাদের বয়স আঠারো থেকে ত্রিশ পঁয়ত্রিশের মধ্যে তারা স্বাধীনভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।"
নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, "এখন আংশিকভাবেই নির্বাচন করতে হবে। তারপরেও নির্বাচন কতটা ঠিকঠাক হয় সেটাও এখন উদ্বেগের বিষয়।"
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা
আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথমত ভোটার উপস্থিতি, দ্বিতীয়ত নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পড়লে প্রশ্ন উঠতে পারে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই নির্বাচন হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সূচনা। জনগণের প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচন হবে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক।