আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে ইউরোপ-ভারত বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় দিক
স্বাধীন বাণিজ্য নীতির প্রশ্নে ভারতের দৃঢ় অবস্থান আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমেরিকার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে, জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় থাকলে বৈদেশিক চাপ মোকাবেলা সম্ভব।
আমেরিকার কঠোর সমালোচনা
মার্কিন রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত দাবি করেছেন, "ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে ইউরোপ নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ ঢালছে।" এই মন্তব্য আসলে আমেরিকার একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রবণতারই প্রতিফলন।
আমেরিকা ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে। কিন্তু ভারত তার নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অটুট রয়েছে। এই দৃঢ়তা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।
দীর্ঘ আঠারো বছরের আলোচনা
২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বাণিজ্য আলোচনা কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ ১৮ বছরের ধৈর্যশীল কূটনীতির ফসল এই চুক্তি। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল একে "সকল চুক্তির জননী" বলে অভিহিত করেছেন।
স্বাধীন নীতির গুরুত্ব
ভারতের এই অবস্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় থাকা কতটা জরুরি। ১৯৭১ সালে আমরা যেমন পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম, তেমনি আজও প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উচিত বিদেশি চাপের মুখে নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখা।
বাংলাদেশও তার বাণিজ্য নীতিতে এমন স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা না নোয়ানো। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য।
আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি
লক্ষণীয় যে, আমেরিকা নিজেও রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য করে অথচ ভারতকে তা করতে নিষেধ করছে। এই দ্বিমুখী নীতি সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতারই পরিচায়ক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো একক শক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।