ডার্বির আগে রেফারিং বিতর্ক: মোহনবাগান সভাপতির '১৩ জনের বিরুদ্ধে খেলা' মন্তব্যে চাঞ্চল্য
ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ঠিক আগে রেফারিং নিয়ে সরব হলেন মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত। তাঁর অভিযোগ, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মোহনবাগানকে কার্যত ১৩ জনের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। এই মন্তব্যে ডার্বির উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
কেন বললেন '১৩ জনের বিরুদ্ধে খেলব'?
দেবাশিস দত্তের দাবি, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের প্রাপ্য পেনাল্টিগুলি দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ফুটবলারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, রবিবার মোহনবাগানকে ধরে নিতে হবে যে তারা ১৩ জনের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ক্ষোভ নতুন নয়, কোচ প্যানাগিওটিস ডিলমপেরিসও আগে একাধিক ম্যাচে দলের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও কেন কলকাতার বাইরে ম্যাচ?
দেবাশিসের ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ ম্যাচের ভেন্যু ও সূচি। তাঁর দাবি, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও মোহনবাগানকে পরের ম্যাচ খেলতে কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার ধকল ফাইনালের আগে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলকে একই ধরনের ভ্রমণের সমস্যায় পড়তে হয়নি বলেই তাঁর বক্তব্য। তাই দুই দলের প্রস্তুতির সুযোগ সমান ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
একদিনের অনুশীলনেই বড় ম্যাচ
শনিবার কলকাতায় ফিরে ফাইনালের আগে শেষ প্রস্তুতি নেয় মোহনবাগান। জেমি ম্যাকলারেন, মিগুয়েল ফিগুয়েরা এবং ডেজান দ্রাজিচদের নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অনুশীলন করে সবুজ-মেরুন দল। চোটের কারণে দলের সঙ্গে শিলং যেতে পারেননি দ্রাজিচ, তবে ফাইনালে তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ সফরের পর মাত্র একদিনের অনুশীলনে ফুটবলারদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স আশা করা কঠিন বলেই মনে করছেন দেবাশিস।
'তবুও আমরা জিততে চাই'
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও ফাইনালে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না মোহনবাগান সভাপতি। বরং দলের ফুটবলারদের লড়াই করার মানসিকতার উপরই ভরসা রাখছেন তিনি। দীর্ঘ যাত্রা, কম অনুশীলনের সুযোগ কিংবা রেফারিং নিয়ে আশঙ্কা, কোনও কিছুকেই অজুহাত হিসেবে সামনে আনতে চান না বাগান শিবির। শেষ পর্যন্ত মাঠে পারফরম্যান্স দিয়েই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
'ভারতীয় ফুটবল মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরেই'
বর্তমানে ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা এবং বিদেশি দল আনার চর্চা চলছে ভারতীয় ফুটবলে। সেই প্রসঙ্গেই বাংলার দুই প্রধানের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন দেবাশিস দত্ত। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্যের কোনও দল কয়েকবার সাফল্য পেলেই বাংলার ফুটবল শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ১৮৮৯ সাল থেকে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে দাবি তাঁর।
এদিন ক্লাবের অনুশীলনে উপস্থিত থেকে কোচ-ফুটবলারদের প্রস্তুতি দেখেন মোহনবাগান সভাপতি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের সিইও বিনয় চোপড়াও। এখন যাবতীয় নজর রবিবারের ডার্বিতে, যেখানে রেফারিং নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি মাঠের লড়াইটাই শেষ কথা বলবে।