রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর: বাংলাদেশের ধৈর্যের পরীক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা ঢল আজ নয় বছর পূর্ণ করল। মিয়ানমার জান্তার জাতিগত নিপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু আজও একজনকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এদিকে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, অস্ত্র ও গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
ক্যাম্পের ভেতরে অদৃশ্য জগৎ: সুড়ঙ্গ ও সশস্ত্র তৎপরতা
কালের কণ্ঠের শিরোনামে বলা হচ্ছে, কক্সবাজারের উখিয়ার ময়নারঘেনা ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অভিযান চালিয়ে একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শুধু সুড়ঙ্গই নয়, অভিযানের আগে সেখানে গরু জবাই করে প্রীতিভোজের আয়োজন করেছিল একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা।
অস্ত্রসহ তাদের অবস্থানের খবর পেয়েই অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুহূর্তেই সটকে পড়ে তারা। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দেখেছে, অনেক ঘরেই শুধু নারী ও শিশু। পুরুষদের অনেকেই আগেই গা ঢাকা দিয়েছে। আর একটি ঘরের মেঝের নিচে পাওয়া সেই সুড়ঙ্গ যেন ক্যাম্পের ভেতরে গড়ে ওঠা এক অদৃশ্য জগতেরই প্রমাণ।
নয় বছরেও প্রত্যাবাসন শূন্য: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা
নিউ এইজের শিরোনাম, 'Nine years on, Rohingyas still have no way home' অর্থাৎ 'নয় বছর পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার কোনো লক্ষণ নেই।' মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের একজনকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেনি।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে সহিংস অভিযান চালায়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, এই অভিযানের মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ড, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা। সাংবাদিক, ত্রাণকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দুঃখ-কষ্টের বিবরণ ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা, কূটনৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ এবং মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির জন্ম দিয়েছিল। অথচ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এসব প্রচেষ্টায় কাজ হয়নি। সংকট শুরুর পর থেকে এর সমাধানের লক্ষ্যে অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই টেকসই সমাধান বয়ে আনতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উচিত যৌথভাবে বিকল্প কোনো পন্থা অবলম্বন করা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষ যে শরণার্থী জীবনযাপনের বেদনা অনুভব করেছিল, আজ রোহিঙ্গাদের সেই একই পরিণতি দেখে আমাদের হৃদয় রক্তাক্ত হয়। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমাদের শিখতে হবে, নিজের মাটিতে নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হতে হবে।
কুষ্টিয়ায় হামজাই সব: রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ
'কুষ্টিয়ায় হামজাই সব' মানবজমিনের শিরোনাম। মাওলানা আমির হামজা, আলোচিত-সমালোচিত এক ব্যক্তিত্ব। ওয়াজের ময়দান থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে নাটকীয়ভাবে পেয়ে যান জামায়াতের মনোনয়ন। কুষ্টিয়া সদর আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হন এই ইসলামী বক্তা। তবে ওয়াজের মাহফিল থেকেই একের পর এক উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক জিইয়ে রেখেছেন তিনি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও ফের আলোচনায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে।
কুষ্টিয়া সদর আসনে একসময় ছিল প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের রাজত্ব। গত ১৭ বছর এই আসনে হানিফই ছিলেন শেষকথা। কিন্তু ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বদলে গেছে দৃশ্যপট। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন হানিফ ও আতা। হানিফের সাম্রাজ্যে এখন দাপট দেখাচ্ছেন আমির হামজা। তিনি বলছেন, কুষ্টিয়া সদর আসনে আগামী পাঁচ বছর তিনিই প্রধানমন্ত্রী, তিনিই সরকার। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অফিসের কর্মকর্তাদের অনেকটা 'ফাটাকেস্ট' স্টাইলে নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিজের গাড়িতে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র বহনের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। আমির হামজার মতো তার অনুসারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও একইভাবে দাপট দেখাচ্ছেন।
রাজনৈতিক সহিংসতার শঙ্কায় সতর্ক পুলিশ
আজকের পত্রিকার শিরোনাম 'সহিংসতার শঙ্কায় সতর্ক পুলিশ'। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত থেকে দেশে ফেরার ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এ জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি এবং এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতেও বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ১৮ আগস্ট সব ইউনিটকে এসব নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা জানিয়ে ইউনিটগুলোকে তা মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপর ২২ আগস্ট একই ধরনের নির্দেশনা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিভিন্ন বিভাগেও পাঠানো হয়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সদর দপ্তরের ওই চিঠিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সন্দেহভাজন নেতা-কর্মীদের নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং জামিনে থাকা ব্যক্তিদের গতিবিধির বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে।
জ্বালানি ভর্তুকির চাপে বাজেট ব্যবস্থাপনা কঠিন
'জ্বালানি ভর্তুকির চাপে বাজেট ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে উঠছে' সমকালের শিরোনাম। কয়েক বছর ধরে জ্বালানি তেলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়নি। এ কারণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে কেনার খরচের চেয়ে বিক্রির দাম কম থাকার কারণে দুই মাসের লোকসান পোষাতে সম্প্রতি সরকারের কাছে সাত হাজার ৬১০ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে চলতি অর্থবছরের জন্য ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুনের বকেয়া পরিশোধসহ চলতি অর্থবছরের মাত্র দেড় মাসেই বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। বিদ্যুতে গত অর্থবছরে মাসে গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগত। গত দুই মাসে প্রয়োজন হয়েছে মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে যাবে এমন প্রত্যাশা থেকে গত অর্থবছরের প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে ভর্তুকির বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দরে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানের রাজস্ব আয়ে পরিস্থিতিতে এত ভর্তুকি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে।
এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
'এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা' বণিক বার্তার শিরোনাম। দেশে গ্যাসের সংকট মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকার আরও কয়েকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় থাকা টার্মিনালের মধ্যে অন্তত দুটিও যদি নির্মাণ হয়, তাহলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈশ্বিক বাজারদর ও সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিলে বছরে এলএনজি আমদানি ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। আর বিদ্যমান স্পট প্রাইস বিবেচনায় ধরলে এ ব্যয় অন্তত দেড় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলেও মনে করেন তাদের কেউ কেউ।
এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এরই মধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ অর্থ জোগাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, ভর্তুকি, বিদেশি ঋণ ও গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের (জিডিএফ) দ্বারস্থ হতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে।
সারের সংকট: গুদামে মজুত আছে, বিতরণে সমস্যা
'সরকারের গুদামে সার আছে, সমস্যা বিতরণে' প্রথম আলোর শিরোনাম। আগস্ট মাস দেশের প্রধান ধানের মৌসুম আমনের জমি প্রস্তুত করা ও চারা রোপণের সময়। চারা রোপণের পর কয়েক ধাপে কৃষককে জমিতে সার দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এ সময় সারের চাহিদা বেশি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। তবে সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, চাহিদার বিপরীতে সারের মজুত ও বরাদ্দে কোনো ঘাটতি নেই।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাঁরা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ডিলাররা ঠিকমতো সার উত্তোলন ও বিতরণ করছেন কি না, তা তদারক করার দায়িত্ব উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার-নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচার করার অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর ৪ উপজেলায় ৪ পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট ২ পরিবেশককে সাড়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জনবহুল দেশ, দক্ষতায় খরা: জাতীয় সংকট
'জনবহুল দেশ, দক্ষতায় খরা' যুগান্তরের শিরোনাম। সংখ্যাগত প্রায় সব দিক থেকেই এগোচ্ছে দেশ; কিন্তু মান কোথায়! ১৮ কোটি মানুষের দেশে দক্ষ জনবলের বিশাল ঘাটতির আলোচনা এখন সর্বত্র। আর এ আলোচনা এখন দেশের সব খাতে। রাজনীতিতে স্লোগানদাতা বেশি। কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল ও দেশপ্রেমিক নীতিনির্ধারক কম। অর্থনীতিতে হিসাবরক্ষক অনেক, উদ্ভাবক নেই।
পুলিশের পদগুলো শূন্য না থাকলেও দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ তদন্ত; সর্বোপরি পুলিশিংয়ের দক্ষতা নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নিজেদের দক্ষতা না বাড়িয়ে রাজনৈতিক দলের পেছনে ছুটছেন। বেসরকারি খাতে কারখানা আছে; কিন্তু তা চালানোর জন্য নিজ দেশে দক্ষ ব্যবস্থাপক মিলছে না। সহজ কথায় বললে, দেশে লোকের অভাব নেই। কিন্তু অভাব দক্ষ লোকের।
বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বর্তমানে দেশে দক্ষতার অভাব জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামোতে আজকে যে অগোছালো অবস্থা, এর মূলে রয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রে অদক্ষতার ছাপ। আবার কিছু দক্ষ লোক থাকলেও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের ভিড়ে তাদের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে আলোচনা আছে।
ঋণ নিয়ে পাচার ঠেকাতে কঠোর বাংলাদেশ ব্যাংক
'ঋণ নিয়ে পাচার ঠেকাতে কঠোর বাংলাদেশ ব্যাংক' নয়াদিগন্তের শিরোনাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক লুটেরা এস আলমের মতো এক ধরনের অলিগার্ক শ্রেণি কাগুজে প্রকল্পের নামে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিতেন না। ঋণের একটি বড় অংশই পাচার হয়ে যেত। আবার এসব ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে তারও কোনো তদারকি করা হতো না।
এর ধকল এখন পোহাচ্ছে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের অর্থনীতি। সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বিশাল খেলাপি ঋণের ভারে ব্যাংকিং খাতের অনেকটা ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া পাঁচ ব্যাংক মিলে একটি ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঋণের অর্থের অপব্যবহার, কাগুজে প্রকল্পের নামে অর্থ বের করে নেওয়া ঠেকাতে এবার বড় ঋণের ব্যবহার সরাসরি তদারকিতে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তা যাচাই করতে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের পর ব্যাংকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না বরং ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সেটিও নজরদারির আওতায় আসবে।
সরকার রাজনৈতিক সাহসের অভাব দেখাচ্ছে: সিপিডি
দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Govt showing lack of political courage: CPD' অর্থাৎ 'সরকার রাজনৈতিক সাহসের অভাব দেখাচ্ছে: সিপিডি'। সরকার দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সাহসের অভাব দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সরকারি কর্মচারীদের নবম বেতন কাঠামোর বিষয়টি এমন একটি বড় ক্ষেত্র, যেখানে সরকার রাজনৈতিক দৃঢ়তার অভাব দেখিয়েছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ছয় মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু আপনারা এখনও বেতন ও ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। কেন আপনারা তা করতে পারেননি? এর পেছনে একটি বড় কারণ রয়েছে, আর তা হলো আপনাদের আর্থিক সক্ষমতা। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি না করে সরকার শুরুতেই ২০-২৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা চালু করতে পারত। তখন একটি সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো আরও কিছুটা সময় নেওয়া যেত, কিন্তু এখন সরকারের সামনে উল্লেখযোগ্য কিছু করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
মুক্তির বর্তা হিসেবে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা রক্ষা করা আমাদের প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা দক্ষতার অভাব, সবকিছু মোকাবিলা করতে হলে আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা না করে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনো আপসের বিষয় নয়, এটাই আমাদের চিরন্তন মুক্তির বাণী।