ইস্টবেঙ্গলের সংকটে মেহতাবের প্রস্তাব: 'আমিই কোচিং করতে পারি'
বাংলার ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এফসি আজ চরম সংকটের মুখে। চলতি ISL মরশুমে (২০২৫-২৬) লাল-হলুদ ব্রিগেড আবারও প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্লাবের প্রাক্তন মিডফিল্ড জেনারেল মেহতাব হোসেন এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত নিয়ে।
স্বাধীনতার চেতনায় গড়া ক্লাবের আজকের দুর্দশা
১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি আমাদের বাঙালি পরিচয়ের অংশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আজ সেই গৌরবময় ক্লাব বিদেশি কোচ অস্কার ব্রুজোঁর নেতৃত্বে ব্যর্থতার গ্লানি বহন করছে।
মেহতাবের তীব্র সমালোচনা
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে দেওয়া একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে মেহতাব হোসেন বলেন, "কথা কম, কাজ বেশি। আপাতত এই নীতিতেই চলা উচিত অস্কার ব্রুজোঁর। তোমাকে যথেষ্ট ভাল দল দেওয়া হয়েছে। গত ১০ বছরের তুলনায় এই দলটা যথেষ্ট ভাল। কিন্তু, এই দলকেও তুমি খেলাতে পারছ না।"
বাঙালি ফুটবলার হিসেবে মেহতাবের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বিদেশি কোচের ব্যর্থতার জন্য বাংলার ফুটবলের ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
দলের বর্তমান অবস্থা
২০২৫-২৬ ISL মরশুমের শুরুটা ভাল করলেও ইস্টবেঙ্গল এফসি এখন সংকটে। প্রথম দুই ম্যাচে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড এফসি এবং দিল্লি এসসিকে হারানোর পর জামশেদপুরের কাছে ১-২ গোলে হেরে যায়। এরপর এফসি গোয়া এবং কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ড্র করে দল।
গত তিন ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ইস্টবেঙ্গল। এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে কোচ অস্কার ব্রুজোঁ একের পর এক ভিত্তিহীন মন্তব্য করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেহতাবের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেহতাব হোসেন নিজেই ইস্টবেঙ্গলের কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "প্রস্তাব পেলে অবশ্যই করতে পারি। আমি দলের ফুটবলারদের একটাই কথা বলব যে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উজাড় করে দাও। ১০০ শতাংশ পারফরম্যান্স তো সবাই দেয়। দরকার পড়লে নিজেদের ২০০ শতাংশ এই দলকে দাও।"
বাঙালি কোচের নেতৃত্বে বাংলার ক্লাবের পুনরুত্থান, এটি শুধু ফুটবলের বিষয় নয়, আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার প্রশ্নও বটে।
আগামী চ্যালেঞ্জ
আগামী শনিবার (২১ মার্চ) মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা ময়দানে গুজব রয়েছে যে, এই ম্যাচে হার বা ড্র হলে অস্কার ব্রুজোঁর বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে।
মেহতাব হোসেনের মতে, "পয়েন্ট তালিকায় ৫-৬ নম্বর টার্গেট করে খেলো না। সেজন্য তোমাদের আনা হয়নি। অন্তত এক থেকে দুইয়ের মধ্যে তোমাদের থাকতেই হবে।"
বাংলার ফুটবলের এই ক্রান্তিকালে মেহতাব হোসেনের মতো অভিজ্ঞ বাঙালি ফুটবলারের এগিয়ে আসা আশার আলো দেখাচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনায় গড়া এই ক্লাবকে আবার সেই গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হলে বাঙালি নেতৃত্বের বিকল্প নেই।